প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান পেয়েছেন, যার ঠোঁটের রঙ কমলা-গোলাপি এবং মুখের রঙ কালো। দীর্ঘ সময়ের অনুসন্ধান, শব্দ বিশ্লেষণ, আলোকচিত্র সংগ্রহ এবং জিনগত গবেষণার পর বানরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন এই বানরের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে কলোবাস কঙ্গোয়েনসিস (Colobus congoensis)। স্থানীয় ভাষায় এটির পরিচিতি ‘লিকওয়েলি’ নামে। প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য হলো এর কালো লোমযুক্ত দেহ এবং উজ্জ্বল কমলা-গোলাপি ঠোঁট।
বিজ্ঞানীদের মতে, আফ্রিকায় গত ৭৫ বছরে এটিই শুধুমাত্র পঞ্চম নতুন প্রজাতির বানর, যেটি বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত হয়েছে।
প্রাণীটি ডিআর কঙ্গোর মধ্য-পূর্বাঞ্চলের লোমামি জাতীয় উদ্যানের ঘন অরণ্যে দেখা গেছে। সংরক্ষণকর্মীরা ২০০৮ সালে প্রথমবার বানরটিকে দেখতে পান, তবে তখন তারা কেবল একটি অস্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম হন। প্রায় ১০ বছর পর আবার প্রাণীটির দেখা মেলে এবং এরপর কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির গবেষকদের একটি দল তালিকা প্রস্তুতির জন্য ব্যাপক গবেষণা শুরু করে।
গবেষণার অন্যতম সদস্য ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক জুনিয়র আমবোকো জানান, এমন একটি অতি পরিচিত প্রাণীর মুখোমুখি হওয়া সত্যিই একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল।
তিনি বলেন, এই প্রাণীটি অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের। বেশিরভাগ সময় গাছের উপরেই অবস্থান করে, সুতরাং সহজে দেখা যায় না। গবেষণার সময় আশপাশের ৫২টি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পর জানা গেছে, মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ এই বানর দেখেছেন।
গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান (PLoS One)-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকরা জানান, স্থানীয় লোকজন বহুদিন ধরেই ‘লিকওয়েলি’ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, কিন্তু এবারই বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি অন্যান্য পরিচিত কলোবাস বানর থেকে জিনগতভাবে আলাদা একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি।
গবেষক দলের সদস্য ও প্রাণিবিজ্ঞানী অধ্যাপক কেট ডেটওয়াইলার বোঝান যে, কলোবাস গোত্রের বানর আফ্রিকার বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ফল ও পাতার মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে দেয়, যা বন পুনর্জন্মে সহায়তা করে।
তাঁর ধারণা, প্রাণীটির উজ্জ্বল কমলা-গোলাপি ঠোঁট সঙ্গী আকর্ষণ কিংবা নিজেদের মধ্যে শনাক্ত করার সংকেত হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
গবেষকরা আরও জানান, এই বানরের ডাক গভীর এবং প্রতিধ্বনিময়, যদিও ঘন বন ও উঁচু বৃক্ষচূড়ার অবস্থানের কারণে তাঁদের দেখা পাওয়া কঠিন।
বর্তমানে এই প্রজাতির সংখ্যা খুবই সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে মাংসের জন্য শিকারের কারণে প্রাণীটি হুমকির মুখে রয়েছে। তবে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া গেলে এব্যাপারে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
গবেষকদের মতে, এই বিরল প্রজাতির প্রকৃত সংখ্যা, বিস্তৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানার দরকার রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত জরিপ ও গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: ইয়াহু
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন