প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন রক্ষার ক্ষেত্রে বনরক্ষীদের দৃঢ় নজরদারি ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে বন গহীনে নৌযান অচল, সেসব জায়গায় পায়ে হেঁটে অর্থাৎ ফুট পেট্রোলিং পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যেখানে ফুট পেট্রোলিং সম্ভব নয়, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এভাবে নানা কর্মকাণ্ড এবং সচেতনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বন অপরাধ দমনে পশ্চিম বিভাগে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, যদিও জনবল সংকট, উন্নত জলযানের ঘাটতি এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে, তবে বনকে নিরাপদ রাখতে বনরক্ষীরা বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ বছরে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন সাঁড়াশি অভিযানে ২৯৪ টি মামলায় ৩৯৬ জন বন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। একই সঙ্গে, বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থা বন অপরাধকে বিগত দিনের তুলনায় অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব করেছে।
সূত্র জানায়, বন বিভাগ ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা বনের গহীনে পায়ে হেঁটে ও জলপথে অভিযান পরিচালনা করবেন। গত ১ বছরে বন অপরাধের দায়ে খুলনা রেঞ্জে মোট ২৯৪ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৯৬ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, পলাতক আসামি সংখ্যা ৬৩ জন। এর মধ্যে অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০৬ টি। বিষ সংক্রান্ত ৩৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের অধীন বনের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে গত ১ বছরে জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ২২টি ট্রলার, ৩৪৯টি নৌকা, ৬ হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার (আটন) ফাঁদ, ৯ হাজার ৮৩৩ মিটার দৌনদড়ি, ২ হাজার ৬১২ কেজি মাছ এবং ১ হাজার ৯৮১ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া।
এ ছাড়া, সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে, দস্যু ও অসাধু চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৭ বোতল মাছ ধরার অবৈধ কীটনাশক এবং ২০৩ কেজি মধু জব্দ করা হয়েছে। হরিণ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে ৩৩ টি। অভিযানে জব্দ করা হয় ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস ও ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ।
সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, স্মার্ট টহল টিম ও বিশেষ টহল টিম মোতায়েন এবং ফুট পেট্রোলিং এর মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অপরাধ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে জেলেদের আগ্রাসী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা বন অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সুন্দরবনের হরিণ শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে। জনবল সংকট ও আধুনিক জলযানের অভাবে বিশাল এই সম্পদ পাহারা দিতে বনকর্মীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বন নির্ভর জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকার ফলে বনের উপর চাপ কমছে না। ফলে, বন কর্মকর্তাদের দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বাসসকে জানান, বনের গহীনে ফুট পেট্রোলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বন অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। সর্বোপরি, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি ও কষ্ট মাথায় নিয়ে দুর্গম বনে পায়ে হেঁটে এবং নদীতে নৌযান চালিয়ে নিয়মিত টহল দিয়ে যাচ্ছেন, ফলে বন অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে বন বিভাগ সদা জাগ্রত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন