প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত শিশু যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক ছিল বলে বহুদিন ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এপস্টেনের ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ মহলের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ ছিল।
বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন ক্রীড়া ভাষ্যকার, কৌতুক অভিনেতা, অভিনেতা এবং সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক জো রোগানের এক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন ভ্যান্স। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি অন্যান্য অনেক বিষয় সম্পর্কে আলাপ করেন এবং বিশেষভাবে বহুল আলোচিত এপস্টেইনকে নিয়েও খোলামেলা কথা তুলে ধরেন।
জেডি ভ্যান্স তার কথায় বলেন, ‘মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার যে যোগাযোগ ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ মহলের সঙ্গেও অব্যাহত যোগাযোগ ছিল।’
এছাড়া, ভ্যান্স কথার প্রেক্ষিতে নিজেকে ‘এপস্টাইন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অন্যতম আদি প্রবক্তাদের একজন’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন তত্ত্ব পর্যালোচনা করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
রোগান যখন এপস্টাইনের ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে প্রচলিত জল্পনার কথা উত্থাপন করেন, তখন ভ্যান্স বলেন, ‘হ্যাঁ, মোসাদ বা সিআইএ, অথবা অন্য কোনো ডিপ স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, ‘যতটুকু আমি জানি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এপস্টেইনের কিছু অংশের সম্পর্ক ছিল, যারা রাজনৈতিকভাবে মধ্য-বামপন্থী হিসেবে পরিচিত।’
তিনি বলেন, ‘এপস্টাইনের সম্পর্ক ডানপন্থীদের তুলনায় ইসরাইলের মধ্য-বামপন্থী মহলের সঙ্গে অনেক গভীর ছিল।’
এ মন্তব্যগুলো প্রকাশ পেলো ঠিক তখনই, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে জনসাধারণের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার স্রোত চলছিল।
ভ্যান্স নাম প্রকাশ করে বলেন, এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশলে ত্রুটি ছিল। তিনি এর জন্য যোগাযোগজনিত সমস্যাকে এবং তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির ‘অতিরঞ্জিত দাবি’কে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সঠিকভাবে সামলাতে পারিনি, বিশেষ করে জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে। আমার মনে হয়, শুরুতেই আমাদের সবকিছু প্রকাশ করে দেওয়া উচিত ছিল। যত দ্রুত সম্ভব কাজটি করা উচিত ছিল।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা তথ্য গোপনের চেষ্টা ছিল না। নথি প্রকাশের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে তিনি ২০০৮ সালের বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তিকে তদন্তের ‘মূল পাপ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এছাড়াও, সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এপস্টেইনের সঙ্গে বিলিয়নিয়ার লেস ওয়েক্সনারের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, এপস্টেইন প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে কিছু সন্দেহজনক কর-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
তাছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্ল্যাকমেইল করার কাল্পনিক ধারণাটি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি ‘উদ্ভট’।
নিউইয়র্ক মহানগরে বেড়ে ওঠা জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন ইহুদি ফাইন্যান্সার বা অর্থলগ্নিকারী ও ব্যবসায়ী। তবে ব্যবসায়ী পরিচয়ের আড়ালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার ও যৌন নিপীড়নের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জন্য পাচার ও নিপীড়নের অভিযোগে ২০১৯ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বছরের ১০ আগস্ট, নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রথমে জানানো হয়।
কিন্তু পরে অনেকে একে হত্যা বলেও সন্দেহ করেন। ২০২৪-২০২৫ সালের মধ্যে তার মামলা সম্পর্কিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশিত হয়। পরে চলতি বছর মার্কিন বিচার বিভাগ আরো নথি প্রকাশ করে।
এই নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিল গেটসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে। উল্লেখ্য, তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন