প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহে প্রেমঘটিত বিরোধের কারণে দশম শ্রেণির ছাত্র সৈকত হাসান আকাশকে (১৫) গলাকেটে হত্যার জন্য দুই ভাইকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এ মামলায় তাদের বাবা এবং চাচাকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল হক (২৬) এবং তার ভাই এনামুল হক। কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, তাদের বাবা স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউল হক (৫৭) এবং চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)। রায় ঘোষণা করার সময় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন এবং নাজমুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তবে এনামুল হক পলাতক হয়ে গেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সাথে ইউপি সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হবার পর মেয়েটির পরিবার এ সম্পর্ক কোনোভাবেই গ্রহণ করেনি। এই ঘটনার ফলস্বরূপ ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে ডেকে নিয়ে গলা কাটার মাধ্যমে হত্যা করা হয় এবং তারপর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ২১ মে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকরাম হোসেন ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের পর ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে।
ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পর উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম খান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন