প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার পর স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরে এসেছে। মালিক ও শ্রমিকের সম্মতির ফলে ঘোষিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশের পর শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে ফিরেছেন। তাদের ফিরে আসার ফলে কলকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের উপস্থিতি, কারখানার কর্মচাঞ্চল্য এবং মহাসড়কে যান চলাচলের স্বাভাবিকতা শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি এনেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন। কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, বাংলাবাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার শিল্পকারখানাগুলোতে সকাল থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাসে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা বর্ধিত বেতন পাবেন। এই ঘোষণার পর শ্রমিকদের কাজে ফেরার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। মালিক ও শ্রমিকের সম্মতির ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিয়েছেন। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. সোহেল রানা জানান, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ মোট ২১ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকগুলো কারখানায় ছুটি ঘোষণা এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায়।
তবে, মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক-শ্রমিকের সম্মতি এবং নতুন বেতন কার্যকরের সময়সূচি ঘোষণার পর পরিস্থিতির দৃশ্যপট বদলেছে। শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে আসার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম সচল হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের পাশাপাশি মালিক-শ্রমিকের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন