প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নওগাঁর মান্দায় সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী একজন আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাইদুর রহমান, যিনি ‘সৈকত ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী এবং মৃত রহিম উদ্দীনের ছেলে, জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি নিজেও সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদনকারী।
অভিযোগের অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য ৩১ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আবেদনের শেষ সময় ছিল ১০ সেপ্টেম্বর। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। তবে অভিযোগকারী পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা করছেন। এ কারণে তিনি প্রক্রিয়াটির শুরু থেকেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ আগস্ট জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ৯৯ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে মান্দা উপজেলার ১৪ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
অভিযোগকারী সাইদুর রহমান বলেন, "যোগ্যতা ও বিধিমালা অনুসরণ করে যেন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়, সে দাবিতেই অভিযোগ করেছি।" তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ঘটে, তাহলে যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হবেন।" তিনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে বিতর্কের সৃষ্টি হবে না এবং সার কালোবাজারির সুযোগও কমবে বলে মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সুপারিশের সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন বলেন, "যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্ত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্যদের মনোনীত করা উচিত।" তিনি বলেন, "কোনো অনিয়মের মাধ্যমে কেউ ডিলার হয়ে কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করুক, আমরা তা চাই না।" তিনি অভিযোগকারীর কাছে প্রমাণ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শায়লা বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা পছন্দের কাউকে সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই।" তিনি জানান, "আমাদের মাত্র তিন দিন সময় ছিল।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে পরিদর্শনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, "যে প্রতিবেদন বা রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে কার্যক্রম পাঠানো হয়েছে।"
অর্থনৈতিক লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।" তিনি চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত আছেন।
ডিসি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, "এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিপত্র বা অভিযোগ তাদের দপ্তরে পৌঁছায়নি।"
এদিকে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, "নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা এখনও প্রমাণিত নয়।" তিনি বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।"
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে বলেন, "অনিয়ম নিয়ে আপনারা এত ইন্টারেস্ট দেখান কেন?" এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর ফোন না করার অনুরোধ জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আতিয়া খাতুন বলেন, "জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যার বরাবর একটি আবেদন বা অভিযোগ করা হয়েছিল।" তিনি বলেন, "বিষয়টি ডিসি স্যার আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তদন্ত করার জন্য।" তিনি জানান, "আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে ও তদন্ত করে দেখছি।"
তিনি আরও বলেন, "এখন পর্যন্ত কোনো নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, "নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন