প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বর্তমানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা পর্যায়ে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোক্তা সাধারণের কাছ থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। তবে, বাস্তবতা হলো, এলপিজির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়া, এলপিজি বিক্রি বেশি দামে হলে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্তা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে এলপিজির সরবরাহ সন্তোষজনক। সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্ট মাসে আমদানি করা হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। ফলে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
সংগঠনটি আরও জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের এলপিজি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করে, তাহলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি মনিটর করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এলওএবির পক্ষ থেকে সকল সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে অবিলম্বে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে এলওএবি।
এদিকে, প্রতি মাসে সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে, কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা সেই দামের চেয়ে বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন। তাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। পরিস্থিতি সম্প্রতি আরও খারাপ হয়েছে।
বর্তমানে সরকার প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা সংকটের অজুহাতে ভোক্তাদের কাছ থেকে ২১০০ থেকে ২৬০০ টাকা নিচ্ছেন। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।
এমন অবস্থায় বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটছে সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন