প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না দেয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় শিক্ষক, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অন্যদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি দুই রাউন্ড টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের বাহিরে প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে, পরবর্তীতে তারা পেছনের একটি ফটক ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। সেই সময় তারা পরীক্ষার উত্তরপত্রও ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের বাধা দিতে গেলে, তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, কেন্দ্রে ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন, যারা সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ছাত্র।
এমসিকিউ পরীক্ষার সময় কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে, কক্ষ পরিদর্শকরা বাধা দেন। এ কারণে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শেষে কিছু পরীক্ষার্থী সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজে হামলা চালান। হামলার ফলে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ বেশকিছু শিক্ষক আহত হন। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলেও কয়েকজন পথচারী আহত হন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করছেন, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের প্রভাব পরীক্ষার্থীদের ওপর পড়েছে। তাদের দাবি, কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কিছু শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও তারা জানান।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। যদি পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তবে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেয়ায় চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ অন্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন