প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী বিউটি খাতুন (৪৫) নামের এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। বিউটি খাতুন শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঝিনাইদহের পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বিশ্বাসের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিউটি খাতুন বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন। জমি দখল, মাদক ব্যবসা, মামলা বাণিজ্য, বিয়ের প্রলোভনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং দেহব্যবসার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিউটি খাতুনের পরিবারটি চরমুরারিদহ গ্রামের জন্য এক ধরনের ক্যান্সার। বিউটির ছেলে রাতুল মাদক ব্যবসা করে এবং বিউটি নিজে দেহ ব্যবসা করে। বিউটির খপ্পরে পড়া ব্যক্তিরা শেষ হয়ে গেছেন। কেউ জমি হারিয়েছেন, কেউ টাকা। পুরো চরমুরারিদহ গ্রামটি একাই শেষ করে ফেলেছে এই মহিলা। তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
এছাড়া, বিউটি যেখানে বসবাস করছেন, সেই জায়গাটিও আওয়ামী লীগের সময় তার দখলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান সাঈদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগিতায় জমিটি দখল করে বিউটি বাড়ি করেছেন। সূত্রে জানা যায়, বিউটি খাতুনের সাথে ঝিনাইদহের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই জমির কারণে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
মিরাজ জামান রাজের কাছে এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিউটি খাতুন দীর্ঘদিন ধরে আমার মায়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। সেই জমি উদ্ধার করতে আদালতে মামলা চলছে। আমার মামলায় আদালত থেকে কমিশন চলাকালীন বিউটি ও চেয়ারম্যান সাঈদ বাহিনী আমার ওপর হামলা চালায়। জমির মালিকানা বুঝে নিতে না পারার জন্য এবং আমাকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিউটি বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণিত হয় যে, শুধুমাত্র জমিজমার বিরোধের কারণে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
আদালত মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ঘোষণা করে খারিজ করে দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে আদালত তাকে আইনের ১৭ (১) ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এই ঘটনায় আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপরাধে আদালত আইনের ১৭(১) ধারায় বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন