প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরানোর পথ সহজ নয়। এই পরিস্থিতিতে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট নতুন সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পেয়েছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের একজন মুখপাত্র আইজেনকটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার কারণে আইজেনকটের জন্য সরকার গঠন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিভিন্ন সম্ভাব্য পথ তুলে ধরা হয়েছে।
সংখ্যালঘু সরকার গঠন
আইজেনকট তার ইয়াশার পার্টির স্বাভাবিক মিত্র—টুগেদার, দ্য ডেমোক্র্যাটস ও ইসরাইল আওয়ার হোমকে নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে তিনি ইসরাইলের দুই আরব দল রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন নিতে পারেন। তবে, উক্ত দল দুটি সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে।
আইজেনকটের মূল জোটের আসনসংখ্যা হবে ৪৮। অন্যদিকে, দুই আরব দলের আসন সংখ্যা ১৯। সব মিলিয়ে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে তাদের সমর্থন ৬৭ আসনে পৌঁছাবে। এতে অনাস্থা ভোটে সরকার টিকে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে নির্বাচনি প্রচারে আইজেনকট আরব দলগুলোকে সরকারে না রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন তাদের সমর্থন নেওয়া তার জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘু জনগণের প্রতি অনেক ইসরাইলির মনোভাব আরও কঠোর হয়েছে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় ফেরা ঠেকাতে দুই আরব দলই আইজেনকটকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দিয়েছে। তারা বৃহত্তর বিরোধী জোটের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
২০২১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সরকারে যোগ দিয়েছিল রা'আম। বর্তমানে বেনেট আইজেনকটের অন্যতম রাজনৈতিক মিত্র এবং টুগেদার পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ে মতবিরোধসহ বিভিন্ন কারণে ১৮ মাসের মাথায় সেই সরকারের পতন ঘটে।
অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোট
আইজেনকট ও তার মিত্ররা চাইলে ইসরাইলের দুই অতি-গোঁড়া ইহুদি দলকেও জোটে টানার চেষ্টা করতে পারেন। দল দুটির সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৩। তাদের সঙ্গে সমঝোতা হলে আইজেনকটের জোটের আসন ৬১-তে পৌঁছাবে। অর্থাৎ, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে।
তবে, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা থেকে অতি-গোঁড়া ইহুদি শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু সাধারণ ইসরাইলিদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সামরিক সেবার বোঝা অন্যদের ওপর অন্যায্যভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ঐক্য সরকার গঠন
আরেকটি সম্ভাবনা হলো নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে আইজেনকটের ইয়াশার, মধ্য-ডানপন্থী টুগেদার এবং ডানপন্থী ইসরাইল আওয়ার হোমের সমন্বয়ে ঐক্য সরকার গঠন।
এই চার দলের আসনসংখ্যা হবে ৬৭। ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা। তবে আপাতত এই সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।
আইজেনকট ব্যর্থ হলে সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু।
সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সম্ভবত নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।
নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোটের আসনসংখ্যা আগের ৬৪ থেকে কমে ৫৩-তে নেমেছে। তবে বিরোধী জোটের দলগুলো থেকে কয়েকজন সংসদ সদস্যকে নিজের পক্ষে টেনে এনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন তিনি।
অতীতেও এমন কৌশল কাজে লাগিয়েছেন নেতানিয়াহু। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী দলে থাকার সময় প্রতিপক্ষের জোটে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। তবে তখন তার প্রতিপক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল তুলনামূলক দুর্বল। ফলে অল্প কয়েকজন সংসদ সদস্যকে নিজেদের দলে টানলেই জোটটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল।
শেষ পর্যন্ত হতে পারে নতুন নির্বাচন
আইজেনকট ও নেতানিয়াহু—দুজনই সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পার্লামেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য প্রায় ১০০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কেউ সরকার গঠন করতে না পারলে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হারজগ নতুন নির্বাচন এড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, আরেকটি নির্বাচন ঠেকাতে যা যা করা প্রয়োজন, সবই করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি খোলা মন নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন