প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গী এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে এক গর্ভবতী নারীসহ তিন বোনের ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গর্ভবতী নারী ময়না আক্তারের গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার দাবি করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ইন্তাজ খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা লাভলি খাতুন জানিয়েছেন, তার বড় বোন পারভীন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গী এলাকায় জমি ক্রয় করে বসবাস করছেন। প্রতিবেশীরা ওই জমি থেকে তার বোনকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে পারভীন আক্তারের বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় এবং তাকে গুরুতর আহত করে। পারভীন আক্তারকে রক্ষা করতে গিয়ে তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছোট বোন ময়না আক্তারকেও মারধর করা হয়। হামলার সময় ময়নার পেটে লাথি মারলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এর সাথে সাথে ময়না আক্তারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং অপর বোন আছিয়া বেগমও হামলার শিকার হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
লাভলি খাতুন আরো জানিয়েছেন, হামলার সময় ময়না আক্তারের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। আহতদের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, ময়না আক্তারের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
এ সম্পর্কে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিকাশ বালাকে শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে তাকে ফরিদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন