প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর খালগুলো পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এর খালগুলোর দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, ডিএসসিসির ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৯টি খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এর ফলে খালের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য হাঁটার ও বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীর পয়োবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একদিনে দেশের উন্নয়ন সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়ার মতো করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নদী-খাল রক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, এ বিষয়ে ঢাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাসও তিনি প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ডিএসসিসির নতুন যুক্ত হওয়া এলাকায় বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এসব এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।
৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪ থেকে ২৫ মিটার প্রস্থের জিরানী খালটি ‘ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হচ্ছে।
৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এর ৭০ শতাংশ অর্থ সরকার এবং ৩০ শতাংশ অর্থ ডিএসসিসি প্রদান করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি।
২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজের অগ্রগতি ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ এবং স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হবে। এছাড়া ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
খালগুলোর পাড়ে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ রোধে আটটি ইটিপি নির্মাণ করা হবে। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জটিলতা, অচল কালভার্ট অপসারণ, সঠিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন