প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রায় ১০,০০০ সাপ উদ্ধার করে বনভূমিতে অবমুক্ত করেছে বাগেরহাটের শরণখোলার চাল রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. শামছু তালুকদার। তিনি স্থানীয়দের কাছে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাপ উদ্ধারকারী হিসেবে পরিচিত। সাপ লোকালয়, বসতবাড়ি কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ার খবর পেলেই তিনি রাতদিনের তোয়াক্কা না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যান।
শনিবার (৪ জুলাই) সাউথখালী ইউনিয়নের রায়েন্দা গ্রামের দুলাল গরামীর সবজিখেতের ঘেরার জালে আটকে থাকা একটি পদ্ম গোখরা উদ্ধার করেন শামছু তালুকদার। উক্ত সাপটি প্রায় ৬ ফুট লম্বা ও ২ কেজি ওজনের বিষধর। তিনি সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেন।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং দক্ষতার মাধ্যমে তিনি কোনো সাপের ক্ষতি না করে নিরাপদে উদ্ধার করে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেন। শামছু তালুকদারের দাবি অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের আগ থেকেই শুরু হওয়া মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ১০,০০০ সাপ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকাসহ ভারতের কলকাতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে সাপ উদ্ধারের কৌশল আয়ত্ত করেছেন। এরপর থেকে তিনি মানুষের জীবন এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিষধর অথবা অবিষধর—যে কোনো সাপের খবর পেলেই তিনি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
শামছু তালুকদার বলেন, সাপ আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে কৃষি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য আতঙ্কিত হয়ে সাপ হত্যা না করে, বরং উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করাই সবচেয়ে ভাল।
তিনি আরও বলেন, সাপ ধরার আগে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী কিছু আচার-অনুশীলন অনুসরণ করেন। তথাপি সফলভাবে সাপ উদ্ধারের মূল ভিত্তি হলো অভিজ্ঞতা, ধৈর্য, সতর্কতা এবং সঠিক কৌশল।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন 'ওয়াইল্ডটিম'-এর কর্মকর্তা আলম হাওলাদার জানান, শামছু তালুকদার দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে বনে অবমুক্ত করছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সাপ সম্পর্কে মানুষের অযৌক্তিক ভয় দূর করতে তার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাপ হত্যা না করে উদ্ধার ও অবমুক্ত করার সংস্কৃতি তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন