প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন, যিনি সুমন নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় দায়ের করা চোরাচালান মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর মধ্যেই তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন সরকারি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণও করেন তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কালাবাহাদুর বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা থেকে প্রায় ৭০০ বস্তা সিমেন্ট ও ৪০০ ক্যারেট কোমল পানীয় জব্দ করে কোস্টগার্ড। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব পণ্য মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের নেতা বেলাল হোসেন, মাহে আলম এবং এনায়েত উল্যাহ প্রকাশ এনাম মেম্বারকে মামলায় আসামি করা হয়। পরবর্তীতে গত ১০ মে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বেলাল হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বেলালের নাম সাত নম্বরে রয়েছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন মো. হান্নান, ইকবাল হোসেন, মো. রাশেদ রহমান, আইয়ুব নবী, মাহে আলম এবং এনায়েত উল্যাহ প্রকাশ এনাম মেম্বার। তাদের মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল।
মামলার নথিতে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, নৌকায় থাকা সিমেন্ট ও কোমল পানীয় মিয়ানমারে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তোলা হয়েছিল। এই কাজে বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য আসামিরা তাদের সহযোগিতা করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে মামলায় আসামি হওয়ার পাশাপাশি বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তবে পরোয়ানা জারির পরও তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কৃষি কমিটিসহ বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেলাল হোসেনকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
বেলাল হোসেন সুবর্ণচর উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে খাসেরহাট বাজারে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করেন।
তবে বেলাল হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, "মামলাটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না এবং মাত্র দুই দিন আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি জানতে পারি।"
বেলাল হোসেন আরও বলেন, "আমি ২০০৯ সাল থেকে একাধিক সিমেন্ট ও রড কোম্পানির পরিবেশক হিসেবে ব্যবসা করে আসছি। পাশাপাশি রাজনীতি করি। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো. শাহজাহানের পক্ষে মাঠে জোরালো ভূমিকা পালন করেছি। রাজনৈতিক একটি পক্ষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। সে কারণেই পরিকল্পিতভাবে আমাকে হাতিয়া থানার ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে।"
তিনি বলেন, "একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার কাজ পণ্য বিক্রি করা। ক্রেতা সেই পণ্য কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, সেটা আমার জানার বিষয় নয়। মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে জানা থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে সরকারি কোনো কর্মসূচিতেও অংশ নিতাম না।"
বেলাল হোসেন জানান, বুধবার নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শাহদাত হোসেনও তার জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, "দুই দিন আগে থানায় বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ পৌঁছেছে। তবে তিনি আদালত থেকে আজ জামিন নিয়েছেন। এই মামলা ছাড়া থানায় তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।"
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, "যুবদল নেতা বেলাল হোসেন ওরফে সুমন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কৃষি কমিটির সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে হাতিয়া থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানার পর তাকে কমিটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন