প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার অভিযোগে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রেক্ষিতে জামায়াত এমপি তার অবস্থান তুলে ধরার জন্য একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিবৃতিটি পাঠান।
বিবৃতিতে আব্দুল গফুর উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ঢাকার মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং তাকে কেন্দ্র করে ‘আমার দেশ’সহ কিছু দৈনিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে এবং আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, মিজানুর রহমানকে আমার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। প্রকৃত সত্য হলো, ঢাকায় মাটিকাটায় আমার নিজস্ব কোনো ব্যক্তিগত বাসা নেই। আমি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ‘ন্যাম ভবন’-এ অবস্থান করি। অথচ প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।"
জামায়াত এমপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "মিজানুর রহমানের সঙ্গে সংঘটিত বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয়। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। একইভাবে, মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণরূপে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে।" তিনি জানান, মিজানুর রহমানের সঙ্গে ‘নিউ গ্রিন প্রপার্টিজ’র দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল এবং ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে তার পাওনা টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল। তিনি আইনানুগভাবে তা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকা পরিশোধ না করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মিজানুর রহমান থানায় মামলা দায়ের করেন।
আব্দুল গফুর বলেন, "উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে ‘নিউ গ্রিন প্রপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম বাধ্য হয়ে মিজানুর রহমানকে পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করেন। তবে অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "প্রকৃত বিষয় হলো সম্প্রতি সংঘটিত ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে আমার জানামতে মিজানুর রহমানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং নেই।" তিনি মনে করেন, "বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ‘নিউ গ্রিন প্রপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি ঘটনাকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।"
এ সংসদ সদস্য বলেন, "আমি মনে করি, একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে আমাকে এ ঘটনায় জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "এ ধরনের অপপ্রচার শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং জনগণের কাছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করারও সুযোগ তৈরি করে।" তিনি মনে করেন, "জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং প্রকৃত বিষয় আড়াল করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে।" তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান, "কোনো পক্ষের দেওয়া একতরফা, অসম্পূর্ণ বা যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে ঘটনার প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করুন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করুন।" একই সঙ্গে তিনি দাবি জানান, "‘আমার দেশ’সহ যেসব গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেসব সংবাদ দ্রুত সংশোধন করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন