প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ৩ জুলাই, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শনিবারের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্বে শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। এ তথ্য রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েক কোটি মানুষের পাশাপাশি কয়েকটি দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের থাকার কথা রয়েছে। মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, তেহরানের প্রধান আলোচক, খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারে জনগণকে ব্যাপকভাবে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে তেহরান এই খবরটি এসেছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, খামেনির কফিন শোকগ্রস্ত মানুষদের দ্বারা কাঁধে করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ভেন্যু গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অন্য একটি ছবিতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্বের অনুষ্ঠানে কালো পোশাক পরা মানুষের ঢল দেখা যাচ্ছে। লাল ফুলের সাজসজ্জা ও বাতাসে ঝুলন্ত সাদা প্রজাপতির পটভূমিতে কফিনটি স্থাপন করা হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উৎপন্ন যুদ্ধের তীব্রতা বর্তমানে স্থগিত হয়ে খামেনির জনসাধারণের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যখন দুটি দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চালু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান জানাচ্ছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলের ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রস্তুতির জন্য কর্মীরা ব্যস্ত ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী চলাচলকারী গাড়িগুলো থামিয়ে দিচ্ছিল। সেখানে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমেছিল।
মাথায় টুপি ও মুখে স্কার্ফ জড়িয়ে কাজ করা কর্মী হোসেইন মোঘাদ্দাসি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ফুলের গাছ লাগাচ্ছি ও গাছে পানি দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সব প্রান্ত থেকে মানুষ আসবে। বিশাল জনসমাগম হবে।’
তেহরানের প্রধান আলোচক ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসের গৌরবময় একটি অধ্যায় রচনায় আমি সমগ্র ইরানি জনগণকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছাতে হবে।’
অনেকে খামেনিকে শিয়া মুসলমানদের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে মনে করেন। তিনি রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তাঁর কমপ্লেক্সে চালানো হামলায় বয়সে ৮৬ বছর হয়ে নিহত হন।
তাঁর মরদেহ তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় থাকবে। বিশাল এ কমপ্লেক্সটিকে খামেনির ছবি ও উদ্ধৃতিসংবলিত ব্যানারে সাজানো হয়েছে। হামলায় নিহত তাঁর স্বজনদের মরদেহও সেখানে রাখা হবে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবে। এটি হলে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে।
গালিবাফ একে ইরানের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অনুষ্ঠানের সময় তেহরান ও পবিত্র নগরী কোম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি থাকবে। এ দুটি শহরে পরবর্তীতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।
কর্তৃপক্ষ শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় শহরের কেন্দ্রের বড় অংশ ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য অগম্য থাকবে।
শুক্রবার থেকে তেহরানের আকাশসীমা আংশিক এবং সোমবার তো পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
তেহরানের অনুষ্ঠান শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জনসমক্ষে আসা খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনিকে তেহরানের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনও জানা যায়নি।
প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেশী ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকেও মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন