প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মঠবাড়িয়া, পিরোজপুরের মিরুখালি সড়ক সংস্কার প্রকল্প, যার ব্যয় ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, নির্ধারিত মেয়াদের দুই বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুন মাসে ভান্ডারিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইফতি টিসিএল’কে সড়কটি সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে সড়ক ও সেতুর কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ ও কাজ দুটিই স্থগিত রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরুখালি সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির ফলে গর্তগুলো পানিতে ভরে গেছে। এসব গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। সড়কটি দিয়ে নিয়মিত ভারী ট্রাকের যাতায়াতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর অবস্থা আরও অবনতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন সড়কটির বেহাল দশা থাকার পর সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে যাওয়ায় কাদা ও গর্তের কারণে দুর্ভোগ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
পিরোজপুর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর তারা সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো বকেয়া বিলের দাবি তুলে নতুন করে কাজ বন্ধ করে দেয়। জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা ও পৌরসভার মাধ্যমে সড়কটির গর্ত ভরাট করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নতুন দরপত্রের মাধ্যমে বাকি কাজ সম্পন্ন করার চিন্তা করা হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমরা যে পরিমাণে কাজ করেছি, এখনও টাকা পাব। বিল পেলে আমরা কাজ শুরু করতে পারব।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন