প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের তোহা বাজারের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে রাতের আঁধারে বালু ভরাট করে প্রায় দুই কোটি টাকার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য মতে, উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নিয়ামতি বাজারের তোহা বাজার এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে রোববার দিবাগত রাতে বালু ভরাট করা হয়।
বাজারের ব্যবসায়ী মিজান খান বলেন, রাতের আঁধারে সরকারি ওই জমিতে বালু ভরাট করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাজারের ১৯-২০ জন ব্যবসায়ীকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করে কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের উদ্দেশ্যেই বিএনপি নেতা সোহেল ফরাজী এই কাজ করেছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরোজ আলম হাওলাদার, দিলীপ সাহা, সৈয়দ আলী, গোবিন্দ শীল, শহিদুল ইসলাম, মতিন জোমাদ্দার, সাত্তার মল্লিক, ক্বারী মুহাম্মদ রুহুল আমিন হাফেজ মুঈন, উজ্জল খান, মিজান খান, কামাল সিকদার, রায়হান জোমাদ্দার, শামস, বাবুল হাওলাদার, মুজিবুর রহমান মৃধা, জাকির হাওলাদার এবং মনির হাওলাদারসহ ১৯-২০ জন ব্যবসায়ী মুদি মনোহরী, আইসক্রীম ফ্যাক্টরি, মুরগীর দোকান, টিনের আড়ত ও মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে তাদের জীবন ধারণ করছেন। উল্লেখ্য যে, ওই জমি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ১২-১৩ জন ব্যবসায়ীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বাকিরা তাদের নিজেদের জমিতে দোকান ঘর তৈরি করে ব্যবসা করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২২ সালে সরকার ওই বন্দোবস্তের ডিসিআর স্থগিত করে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জমিটি ভোগদখলে রেখে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজী জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে মন্তব্য করেন যে, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ওই জমিতে বাজারে চার তলা বিল্ডিং নির্মাণের জন্য বালু ভরাট করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বিল্ডিং নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঠিকাদার নির্মাণ কাজ করবে। তবে, সরকারি জমিতে রাতের আঁধারে বালু ভরাট করার লক্ষ্যে কেন তিনি সাড়া দিয়েছেন, সেই প্রশ্নের কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
সরকারি তোহা বাজারের জমিতে রাতের আঁধারে বিএনপি নেতার বালু ভরাটের বিষয়ে সরকারি অনুমোদন আছে কি না, তা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, বালু ভরাটের বিষয়টি তাদের জানা নেই। যদি কেউ সরকারি তোহা বাজারে বালু ভরাট করে, তবে সেটি অপরাধ। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই ঘটনাটি জানার পর ইতোমধ্যে নিয়ামতি ইউনিয়নের তহশিলদারদের জ্বালানি সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধে সাইনবোর্ড লাগিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও, যদি কেউ অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলে নিযুক্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন