প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের জন্য করা আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ এবং সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্যসচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রেরিত হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১ নম্বর কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন।
এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনে জানানো হয়েছে, কয়া, শিলাইদহ, চর সাদীপুর, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের একাংশের প্রায় দুই লাখ মানুষ এই এলাকার সঙ্গে যুক্ত।
প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অগ্নিনির্বাপণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করেন। এতে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগী ও প্রসূতি মায়েদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-২ শাখা ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানায়।
আবেদনকারীদের দাবি অনুযায়ী, ওই নির্দেশনার পর ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্প পরিচালক (সেতু) প্রস্তাবিত সেতু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। একই বছরের ৬ থেকে ৯ অক্টোবর পরিবেশবিষয়ক জরিপও করা হয়।
পরে ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীদের একটি উচ্চপর্যায়ের দলও প্রস্তাবিত সেতুর স্থান পরিদর্শন করে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেতুটি নির্মিত হলে কুষ্টিয়া শহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহের কুঠিবাড়ী ও ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়ার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীরা।
শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ এলাকাবাসীর পক্ষে সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন বা নির্মাণকাজ শুরুর কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ করা হয়নি। এতে মূলত আবেদন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন