প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করার পর বাবাকে মারধরের ঘটনাটি ঘটার কয়েক দিন পর ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নীলা খাতুন নামের কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী তিন যুবক- রকি শেখ, শোয়েব মালী ও ইমন শেখ নীলাকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। এ বিষয়ে নীলার বাবা লিটন শেখ অভিযুক্তদের অভিভাবকদের একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন।
১ অক্টোবর, অভিযুক্তরা লিটন শেখের বাড়িতে গিয়ে নীলাকে হুমকি দেয় এবং এলাকায় অপপ্রচার চালায়। প্রতিবাদ জানালে প্রতিবেশী আকলিমা খাতুনের সঙ্গে নীলার বাগ্বিতণ্ডা ঘটে। পরদিন ২ অক্টোবর, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে লিটন শেখকে ধরে নিয়ে একটি বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। বাবাকে বাঁচাতে গেলে নীলা ও তার মা দেলোয়ারা বেগমকেও মারধর করা হয়। এই ঘটনার পর লিটন শেখ তালা থানায় আমজেদ শেখ, রকি, শোয়েব, ইমন, ইমরান ও আকলিমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং অভিযুক্তরা হুমকি অব্যাহত রেখেছিল। তিন দিন পর নীলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় নীলার পা মাটিতে স্পর্শ করছিল এবং গলায় ফাঁসের কোনো স্বাভাবিক দাগ ছিল না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়নি, যা বর্তমানে রিং করলেও কেউ ধরছে না। তাদের ধারণা, নীলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই পরিণতি ঘটতো না।
এদিকে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল। তিনি আরও জানান, সোমবার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এবং পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন