প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সোমবার সকালে আলাস্কার বৃহত্তম শহর অ্যাঙ্কোরেজে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। যদিও নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে, তবুও ভোটারদের মধ্যে এর প্রতি তেমন উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়নি।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার বিরুদ্ধে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ভোট কমানোর জন্য একই নামের আরেক ব্যক্তিকে প্রার্থী করার অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অ্যাঙ্কোরেজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাঙ্কোরেজে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকলেও ভোট দিতে আসা খুব কম মানুষকেই এ অভিযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা গেছে।
হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলেও আলাস্কার ভোটারদের মধ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
রাজ্যটির ভোটার ডেল ব্রাউন তার প্রতিক্রিয়ায় সংক্ষেপে বলেন, ‘কে পরোয়া করে?’
২৫ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি ব্রাউন অন্য নামের প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশলকে ‘অনৈতিক’ মনে করেন, তবে তিনি এটিকে ‘বেআইনি নয়’ বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে ফ্লোরিডার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানরা একই কৌশলে নামসর্বস্ব প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল।
স্বতন্ত্র ভোটার ব্রাউন এএফপিকে জানান, ‘আমেরিকার রাজনীতি এখন পুরোপুরি মিথ্যার এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, নৈতিকতা বলতে যা বোঝায়, তা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে।’
তবে এ বিতর্ক তার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মূল্যস্ফীতি বিরক্তিকর বলেও জানান তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে হেরে গেলে ট্রাম্পের দল সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে। এ কারণে আলাস্কায় নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা তীব্র।
অ্যাঙ্কোরেজে প্রতিবেশীদের বাড়ির বেড়ার দুই পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারপত্র ও সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেলটোলার নির্বাচনী প্রচারশিবিরই একই নামের আরেক প্রার্থী দাঁড় করানোর পরিকল্পনায় সহায়তা করেছে। তবে পেলটোলা এ বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প আগেভাগেই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগ নেন।
রোববার এক ফেডারেল বিচারক তার আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্তের আইনি ভিত্তি কী, সে বিষয়ে তারা কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বরফে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যায় এমন একটি বিপণিবিতানের ভোটকেন্দ্রে রে হার্ট উপস্থিত হন। তিনি স্বীকার করেন, ব্যালটে একই নামের দুজন ড্যান সুলিভান থাকায় ভোটারদের মধ্যে ‘বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে’।
তবে রিপাবলিকান দলের এই ভোটার মনে করেন, প্রতারণার এ কৌশলে খুব কম মানুষই বিভ্রান্ত হয়েছেন।
৩৭ বছর বয়সী অপরাধ তদন্তকারী হার্ট বলেন, ‘আমি ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে বলতে শুনেছি, সঠিক ড্যান সুলিভানকে ভোট দিতে ভুলবেন না।’
আলাস্কায় এএফপি’র সঙ্গে কথা বলা অনেক ভোটার জানান, বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা প্রচারপত্র, বিজ্ঞাপন ও নানা ধরনের ডাকযোগে পাঠানো বার্তা পেয়েছেন।
তবে ব্যালটে দুই সুলিভানকে সহজেই আলাদা করা যায়।
সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের পাশে ‘নিবন্ধিত রিপাবলিকান’ ও ‘বর্তমান সিনেটর’ পরিচয় উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়রের নামের পাশে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ট্রাম্প তাকে ‘ভুয়া’ সুলিভান বলে অভিহিত করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে ভোটকর্মীরাও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ভোটকেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক জানান, ‘মনে হচ্ছে, বিষয়টি ভোটারদের কাছে বেশ স্পষ্ট।’
বিমান সংস্থার পাইলট লুক ক্লেমেন্টও মনে করেন, ব্যালটে কে আসল প্রার্থী, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।
তবে ৪৭ বছর বয়সী ক্লেমেন্টের আক্ষেপ, এবারের নির্বাচনী প্রচার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কাদা ছোড়াছুড়িতে পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন তিনি।
ক্লেমেন্ট বলেন, অন্য মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় আলাস্কার মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি অনুভব করছেন। কারণ, রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ‘সবকিছু বাইরে থেকে আনতে হয় এবং সবকিছুই জ্বালানির দামের ওপর নির্ভরশীল।’
ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যদের আলোচনায় উঠে আসে অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে স্যামন মাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও রাজ্যের বিপুল তেলসম্পদ কতটা কাজে লাগানো উচিত— এমন সব বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন