প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঘুমন্ত স্বামীর অন্ডকোষ চেঁপে হত্যার পর তার লাশ মাটির নিচে চাঁপা দিয়ে রেখেছেন স্ত্রী। বরিশালের মুলাদী থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা জানিয়েছেন, নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৬) পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ওসি বলেন, সোমবার দুপুরে মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে মাটি চাপা অবস্থায় স্বামী হারুন হাওলাদারের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওইসময় সন্দেহজনকভাবে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে পুলিশ আটক করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হারুন হাওলাদার গত ২৬ জুন থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। তার স্বজনরা তখন বেশ কিছুদিন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি, এবং ঘটনার পরদিন ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুলাদী থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অপরদিকে সোমবার সকালে হারুন হাওলাদারের বাড়ির পেছনে একটি নির্দিষ্টস্থানে মাটি আলগা অবস্থায় দেখা যায়। প্রতিবেশীরা স্থানটি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢাকা দেখতে পান। এতে তাদের সন্দেহ দেখা দেয়। তারা কঞ্চি সরিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহের একটি অংশ বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে মুলাদী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘকাল ধরে স্ত্রী সেলিনা বেগমের পরকীয়া প্রেম নিয়ে স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরপর হঠাৎ হারুন নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর স্ত্রী সেলিনা বেগমের কথাবার্তা ও আচরণ পুরোপুরি রহস্যজনক হয়ে যায়। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে নিহতের স্ত্রীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে নিখোঁজ হওয়ার রাতেই হারুনকে অন্ডকোষ চেঁপে হত্যা করেছে তার স্ত্রী। পরে আতঙ্কের কারণে লাশ লুকাতে বাড়ির পেছনে মাটি খুঁড়ে চাঁপা দেন। পুরো হত্যাকান্ড এবং লাশ মাটিতে চাপা দেওয়ার কাজ তিনি একাই করেছেন বলে সেলিনা বেগম জানিয়েছেন। তবে তদন্তে দেখা হচ্ছে যে, এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তির হাত রয়েছে কিনা। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সেলিনা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন