প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকায় একজন ব্যাচেলর হিসেবে বাসা খোঁজা অনেকের জন্য একটি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদি পছন্দের লোকেশন ও ভাড়া পাওয়া যায়, তাও শেষ মুহূর্তে ‘ব্যাচেলর’ পরিচয়ের জন্য অনেক বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া দিতে রাজি হন না। ফলে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী উভয় শ্রেণির ব্যাচেলরদের জন্য বাসা খুঁজতে অতিরিক্ত সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু কিছু কৌশল অনুসরণ করলে এই ঝামেলা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে এমন ভবন বা এলাকায় খোঁজ করা উচিত যেখানে পূর্বেই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া অবস্থান করছেন। সহকর্মী, বন্ধু, সিনিয়র বা পরিচিতদের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য জানা গেলে বাসা পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
বাসা খোঁজার প্রক্রিয়ায় ভবনের দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারেন। অনেক সময় কোনো বাড়িতে ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ড না থাকলেও কোন ফ্ল্যাট খালি হবে এবং কোন বাড়িওয়ালা ব্যাচেলর ভাড়া দেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়।
একই এলাকায় একাধিক ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেখা গেলে প্রতিটি নম্বরের ছবি তুলে রাখা যেতে পারে। পরে ফোন করে শুরুতেই জানতে হবে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন কি না। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ঘোরাঘুরি কমানো যাবে।
মাসের শেষের দিকে বাসা খোঁজার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কারণ এ সময় অনেক ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়েন এবং নতুন ভাড়াটিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেন। তাই প্রয়োজনের কয়েক সপ্তাহ আগে খোঁজ শুরু করা ভালো।
পরিচিত কারও মাধ্যমে বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আস্থা তৈরি করাও সহজ। পাশাপাশি কতজন থাকবেন, কোথায় পড়াশোনা বা চাকরি করেন এবং কতদিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, এসব বিষয় স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। শুধু ‘আমরা ভালো ব্যাচেলর’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট তথ্য কিংবা প্রয়োজনে পরিচয়পত্র বা রেফারেন্স দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, বাসা পাওয়ার আশায় নিজেকে ‘ফ্যামিলি’ পরিচয় দেওয়া বা তথ্য গোপন করা উচিত নয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ পেলে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
অনলাইনে বাসা খোঁজার ক্ষেত্রে, শুধু ‘বাসা ভাড়া’ লিখে সার্চ না করে, এলাকার নামের সঙ্গে ‘ব্যাচেলর বাসা’, ‘সাবলেট’, ‘রুমমেট চাই’, ‘সিট ভাড়া’ বা ‘শেয়ারড ফ্ল্যাট’ লিখে খুঁজলে বেশি ফল পাওয়া যেতে পারে।
পুরো ফ্ল্যাট না পেলে শেয়ারড ফ্ল্যাট বা সাবলেটও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে উঠার আগে বাড়িওয়ালার অনুমতি, ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, রান্না ও বাসার নিয়মকানুন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া জরুরি।
বাসা দেখতে যাওয়ার সময় অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো। তবে প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত নথির কপি কারও কাছে দেওয়া উচিত নয়।
এ ছাড়া বাসা নেওয়ার আগে অতিথি আনার নিয়ম, বাসায় ফেরার নির্ধারিত সময়, ছাদ ব্যবহারের অনুমতি এবং কতজন থাকার অনুমতি রয়েছে, এসব বিষয় নিশ্চিত হয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে, যদি কোনো বাড়িওয়ালা স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেবেন না, তাহলে সময় নষ্ট না করে অন্য বিকল্প খোঁজাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খোঁজ শুরু করা, পরিচিতদের সাহায্য নেওয়া এবং সঠিক মাধ্যমে অনুসন্ধান চালালে ঢাকায় ব্যাচেলরদের জন্য বাসা খোঁজার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন