প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা অবস্থায় থাকার কারণে এই সমঝোতার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জুনে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং যুদ্ধবিরতির পর একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস করা। সমঝোতার আওতায় দুই পক্ষের জন্য বিভিন্ন শর্ত ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান।
বর্তমানে আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পারস্পরিক অবিশ্বাস। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে নিশ্চয়তা পেতে চাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছে।
সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়া মানেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। তবে এটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নতুন করে কোনো সমঝোতা না হলে আগের চুক্তির আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ভবিষ্যতে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই পক্ষকে হয় নতুন একটি সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে, নয়তো আরও বিস্তৃত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং সংঘাতের নতুন করে বিস্তার ঠেকানো আরো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন।
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা মেনে নিক এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা দিক।
ইরান অবশ্য দাবি করে আসছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা তার অধিকার। তেহরান একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বন্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের মতবিরোধ রয়েছে।
জুনের সমঝোতা যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক কাঠামো হিসেবে দেখা হয়েছিল। এটি সামরিক সংঘাত থেকে রাজনৈতিক আলোচনায় ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ এবং দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে এই প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
এদিকে, সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই মুহূর্তে প্রধান উদ্বেগ হলো, সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দেশ আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে কি না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল কিনা, তার প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়তে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না। কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু হলে আগের সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো, নতুন শর্তে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা করা কিংবা আরও বিস্তৃত শান্তিচুক্তির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানোই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এই অবস্থায় জুনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়াকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব না হলে গত কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন