প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নওগাঁর বদলগাছীতে সরকারি অর্পিত (ভিপি) জমির দখল নিয়ে সংঘর্ষের ফলে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি হওয়া হত্যা মামলায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় ১৫ জন আসামির মধ্যে রাসেল রানা নামে স্থানীয় এক সাংবাদিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাদী নিজেই তাকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় জেলা ও উপজেলাজুড়ে কর্মরত সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের বারাতৈল গ্রামের খোর্দ্দ ভূবন মৌজায় অবস্থিত প্রায় ১৪ বিঘা সরকারি ভিপি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এতদিন ধরে ওই জমিতে লিজ নিয়ে ফসল ফলিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। চলতি বছর নিহত মাসুদ রানা, তার বাবা আফজাল হোসেন ও ভাই রিফাত হোসেন উক্ত জমি লিজের জন্য আবেদন করেন। তবে এ বছর প্রশাসন কোনো পক্ষকেই লিজ প্রদান করেনি।
লিজ না পেলেও পুরোনো অভ্যাসে একপক্ষ জমিতে ফসল আবাদ করতে গেলে তা নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। এর জেরে গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০-১২ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে (৩৫) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মাসুদ রানার মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তার ছোট ভাই রিফাত হোসেন বাদী হয়ে বদলগাছী থানায় ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় ১৫ নম্বর আসামি করা হয় দৈনিক ‘টাইমস টুডে’র নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি রাসেল রানাকে।
তবে মামলার বাদী রিফাত হোসেনের বক্তব্যে উন্মোচিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাদী স্পষ্ট জানান, তিনি ১৫ নম্বর আসামিকে চেনেন না। সংঘর্ষের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আমার সামনেই আমার ভাইকে রাজা, জাহাঙ্গীর, কুদ্দুস ও ফটিক নামে চারজন মিলে মারধর করেছে। আমি সাংবাদিক রাসেল রানাকে চিনিই না।"
মামলায় এই সাংবাদিকের নাম কীভাবে এলো জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলা করার সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার চাচা উপস্থিত ছিলেন। তবে কে এই নাম দিয়েছে, তা তার জানা নেই।
সাংবাদিক রাসেল রানার দাবি, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, "বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল এমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিহিংসাবশত চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাকেই এই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।"
তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বালুভরা ইউপি চেয়ারম্যান আল এমরান। তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত মারামারির বিষয়ে অবগত থাকলেও কে কাকে আসামি করেছে তা তিনি জানেন না। এমনকি বাদীর সঙ্গে থানায় যাওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
বিষয়টি নিয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
তদন্তের বিষয়ে ওসি আরও জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন