প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০২৬ সালের এম৩এম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে দেখা গেছে ভারতীয় অভিনয়শিল্পীদের সম্পদের মধ্যে বৈচিত্র্য। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বলিউডের কিং শাহরুখ খান। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি। অর্থাৎ, তালিকার অন্যান্য অনেক অভিনেতার সম্পদ যোগ করলেও শাহরুখের কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন। তবে চলতি বছরের হিসাব অনুযায়ী, শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৫ সালের হুরুন তালিকায় তাঁর সম্পদ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। এক বছরে সেই হিসাব থেকে কমেছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। তবুও, তিনি ভারতের অভিনেতাদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ তারকার সম্পদের পরিমাণ নিচে উল্লেখ করা হলো।
শাহরুখ খান
তালিকার প্রথম নামটি অবশ্যই শাহরুখ খান। ১৯৯০-এর দশকে টেলিভিশনের মাধ্যমে শুরু করে বলিউডের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠা শাহরুখ এখন শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং একজন বড় ব্যবসায়ীও। তাঁর সম্পদের একটি বড় অংশ এসেছে অভিনয়ের বাইরের ব্যবসা থেকে।
রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের মতো প্রযোজনা ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ব্যবসা এবং নাইট রাইডার্স স্পোর্টসের সঙ্গে শাহরুখের সম্পৃক্ততা তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্যকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানা ছাড়াও ক্রিকেটভিত্তিক অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে এই গোষ্ঠী। ফলে শাহরুখের সম্পদের হিসাব কেবল সিনেমায় অভিনয় করে পাওয়া পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল নয়।
মজার বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাহরুখের সিনেমার সংখ্যা খুব বেশি নয়। ২০২৩ সালে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর বড় পর্দায় তাঁর নতুন ছবি আসেনি। তবুও, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও সম্পদের মূল্যায়ন তাঁকে ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার অবস্থানে রেখেছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তির কথা রয়েছে ‘কিং’ ছবিটির, যেখানে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন মেয়ে সুহানা খান।
নাগার্জুন
শাহরুখের পরেই রয়েছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা নাগার্জুন আক্কিনেনি। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি রুপি। নাগার্জুনের আর্থিক সাফল্যের পেছনে অভিনয়ের পাশাপাশি রয়েছে প্রযোজনা ও ব্যবসা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্নপূর্ণা স্টুডিওস দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের শিল্পে দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। চলচ্চিত্রের বাইরেও বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ তাঁর সম্পদ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে হুরুনভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অমিতাভ বচ্চন
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। আনুমানিক সম্পদ ৪ হাজার কোটি রুপি। তবে তাঁর ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, শুধু বর্তমান সম্পদের পরিমাণ নয়, বরং এক বছরে সম্পদের হিসাবের বড় পরিবর্তন।
২০২৫ সালের হুরুন তালিকায় অমিতাভের সম্পদ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি। ২০২৬ সালের তালিকায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কোটিতে। অর্থাৎ, এক বছরে মূল্যায়ন বেড়েছে ২ হাজার ৩৭০ কোটি রুপি। বিনিয়োগ, রিয়েল এস্টেট এবং পরিবারের ফ্যামিলি অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন সম্পদ এই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছয় দশকের কাছাকাছি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অমিতাভ অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন, বিনিয়োগ ও সম্পত্তির ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ফলে তাঁর সম্পদও এখন কেবল সিনেমার পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল নয়।
সালমান খান
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন সালমান খান। আনুমানিক সম্পদ ৩ হাজার কোটি রুপি। এবারের তালিকায় সালমানের অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ ২০২৫ সালের আলোচিত অভিনেতাদের সম্পদের তালিকার সঙ্গে তুলনা করলে এবার তাঁর অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সালমানের আয়ের বড় উৎস অভিনয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড ব্যবসা এবং তাঁর ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ড। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের সবচেয়ে পরিচিত তারকাদের একজন হওয়ায় বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট থেকেও তাঁর আয় উল্লেখযোগ্য।
হৃতিক রোশন
পঞ্চম স্থানে রয়েছেন হৃতিক রোশন। আনুমানিক সম্পদ ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি। ২০২৫ সালের হিসাবে তাঁর সম্পদ ছিল প্রায় ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি। অর্থাৎ, এক বছরে প্রায় ৩৪০ কোটি রুপি বেড়েছে বলে হুরুনের হিসাবভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হৃতিকের সম্পদের ক্ষেত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম এইচআরএক্স। ফিটনেস ও লাইফস্টাইলকেন্দ্রিক এই ব্র্যান্ড তাঁর তারকাখ্যাতিকে ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করেছে। ফলে পর্দার বাইরেও হৃতিকের পরিচিতি একটি ব্যবসায়িক ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি হয়েছে।
অক্ষয় কুমার
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন অক্ষয় কুমার। আনুমানিক সম্পদ ২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে বিপুলসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও তাঁর আয়ের উৎস। অক্ষয়ের ক্যারিয়ারের বিশেষত্ব হলো তাঁর কাজের ধারাবাহিকতা। বছরে একাধিক ছবিতে অভিনয় করার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজের আয়ের ক্ষেত্রও বিস্তৃত করেছেন তিনি।
আমির খান
সপ্তম স্থানে রয়েছেন আমির খান। আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৮০০ কোটি রুপি। অন্যান্য অনেক তারকার তুলনায় আমির সিনেমার সংখ্যা কম করেন, কিন্তু প্রতিটি ছবিকে ঘিরে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও প্রযোজনার ভূমিকা তাঁকে আলাদা জায়গা দিয়েছে। আমিরের সম্পদের সঙ্গে তাঁর প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানও গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবে কাজ করার কারণে চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গে তাঁর আর্থিক স্বার্থও যুক্ত থাকে।
চিরঞ্জীবী
অষ্টম স্থানে রয়েছেন তেলুগু সিনেমার মেগাস্টার চিরঞ্জীবী। আনুমানিক সম্পদ ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি।
চার দশকের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কাজ করছেন চিরঞ্জীবী। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও তাঁর সম্পদের অংশ। তাঁর অবস্থান প্রমাণ করে, ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতাদের তালিকায় দক্ষিণ ভারতীয় তারকাদের উপস্থিতি এখন আর ব্যতিক্রম নয়।
ভেঙ্কটেশ দগ্গুবতী
নবম স্থানে রয়েছেন তেলুগু তারকা ভেঙ্কটেশ দগ্গুবতী। আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৬৫০ কোটি রুপি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি প্রযোজনা ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে। সুরেশ প্রোডাকশনসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দগ্গুবতী পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে ভেঙ্কটেশের আর্থিক পরিচয়ও শুধু অভিনেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়।
রাম চরণ
শীর্ষ ১০-এর শেষ নাম রাম চরণ। আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপি। তালিকার অন্যদের তুলনায় বয়সে তরুণ হলেও গত এক দশকে তাঁর ক্যারিয়ারের উত্থান উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ‘আরআরআর’-এর আন্তর্জাতিক সাফল্য তাঁর পরিচিতিকে ভারতের বাইরে নিয়ে গেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড তাঁর সম্পদ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে হুরুনভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন