প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যখনই রেস্টুরেন্টে আসতেন, তখনই তার সম্পর্কে অভিযোগ থেকে যেত। খাবার প্রত্যাশা করতেন প্রচণ্ড গরম, এবং কথা বলার সময় রাগ প্রকাশ করা ও কর্মীদের উদ্দেশে কটু ভাষা ব্যবহার করা ছিল তার অভ্যাস। এইভাবে একজন ক্রেতাকে দেখে অন্যান্য কর্মীরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেন, কিন্তু মেলিনা সালাজার কখনো তার টেবিলের খাবার পরিবেশন করা থেকে পিছিয়ে যাননি। টানা প্রায় সাত বছর ধরে তিনি একইভাবে তার সেবা দিয়ে চলেছিলেন এবং সেই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর মেলিনার জন্য একটি অবিশ্বাস্য চমক অপেক্ষমাণ ছিল। বৃদ্ধ ওই ব্যক্তি উইলে মেলিনাকে ৫০ হাজার ডলার এবং একটি ২০০০ মডেলের বিউইক গাড়ি দিয়ে যান।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলের লুবিস ক্যাফেটেরিয়াতে ঘটেছিল। ২০০৭ সালে এটি প্রথম আলোচনায় আসে। সেই সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করে। মেলিনার নিয়মিত ক্রেতার নাম ছিল ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস। ৮৯ বছর বয়সী সোর্ডস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন প্রবীণ সেনা সদস্য ছিলেন এবং রেস্টুরেন্টে নিয়মিত আসতেন। কিন্তু কর্মীদের কাছে তার পরিচিতি সহজ ছিল না।
মেলিনার কাছে সোর্ডসের খাবার থাকার মাত্রার ব্যাপারে বিশেষ দাবি ছিল। তিনি চাইতেন তার খাবার যেন অত্যন্ত গরম হয়। খাবারের তাপমাত্রা এতটাই গরম হতে হতো যে তা মুখ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি কোনোরকম পরোয়া করতেন না। নিজের পছন্দমতো কিছু না হলে তিনি রেগে যেতেন, অভিযোগ করতেন এবং কখনো কখনো কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করতেন।
এসব কারণে অন্য কর্মীরা তার টেবিলের দায়িত্ব নিতে চাইতেন না। কিন্তু মেলিনা সাধনার সঙ্গে সাত বছর ধরে সোর্ডসের খাবার তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবেশন করতেন। বৃদ্ধের রাগ বা অভিযোগের জবাবেও তিনি নিজের আচরণ পরিবর্তন করেননি। ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে সোর্ডস হঠাৎ করে রেস্টুরেন্টে আসা বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয় পত্রিকার মৃত্যুসংবাদ থেকে মেলিনা জানতে পারেন, জুলাই মাসে তিনি মারা গেছেন।
সেখানে গল্পটি শেষ হতে পারত। কিন্তু কয়েক মাস পর, বড়দিনের ঠিক আগে, মেলিনা জানতে পারেন, সোর্ডস মৃত্যুর আগে তার জন্য ৫০ হাজার ডলার রেখে গেছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, ২০০০ মডেলের বিউইক গাড়িটিও তাকে দিয়ে যান। খবরটি পাওয়ার পর মেলিনা এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সেই সময় টেক্সাসের কেজিবিটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে ঘটনার সত্যতা এখনও তার কাছে অবিশ্বাস্য। সোর্ডসের স্বভাব নিয়ে তিনি কিছুটা রূঢ় প্রকৃতির মানুষের হিসাবেই বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু সোর্ডস জীবিত অবস্থায় মেলিনাকে এমন বড় পুরস্কার দেবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত ছিল বলে তথ্যে উল্লেখ নেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্টে এটি সম্পর্কে দাবি করা হয়েছে, তিনি মেলিনার জন্য একটি বিশেষ ধন্যবাদপত্র রেখে গিয়েছিলেন। তবে ২০০৭ সালে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে এর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, সাত বছর ধরে মেলিনার উদারতা এবং সেবা পাওয়া এই নিয়মিত বৃদ্ধ মৃত্যুর পর তার উইলে ৫০ হাজার ডলার এবং একটি গাড়ি মেলিনার নামে রেখে যান।
ঘটনার পর অন্য রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য মেলিনার পরামর্শ ছিল খুব সাধারণ। তিনি মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে এবং ভালোভাবে আচরণ করতে বলেছিলেন। প্রায় দুই দশক আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়েছে। কারণ পুরো কাহিনির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাত বছরের সেই আচরণ। মেলিনা আশা করেননি যে তার ধৈর্যের কোনো প্রতিদান আসবে। অন্যরা যে মানুষটিকে এড়িয়ে চলতেন, তাকেই তিনি প্রতিদিন সেবা দেওয়ার অভ্যাস বজায় রেখেছিলেন। এবং একইভাবে ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস জীবনের শেষে মৃত্যু পর পুরস্কারের মাধ্যমে সেবার মূল্যায়ন করে গেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন