প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রেজাউল করিম মানিক
রংপুর, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই) দেশের গম ও ভুট্টার চাষ বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে চলেছে।
বর্তমানে দেশে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সহনশীল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাদgable কম্পোনেন্ট এবং ভালো ফলন হবে এ ধরনের উদ্ভাবিত গম ও ভুট্টার নতুন জাত চাষে দেশের কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দেশে বর্তমানে চাষ হওয়া গমের প্রায় সবকটি জাত বিডব্লিউএমআরআইর উদ্ভাবিত। এর ফলে দেশের আমদানি-নির্ভরতা ক্রমাগত কমছে।
বিডব্লিউএমআরআই জানায়, গত ৭ বছরে তারা গমের উচ্চফলনশীল পাঁচটি জাত উদ্ভাবন করেছে। এ জাতগুলোর নামকরণ করা হয়েছে বিডব্লিউএমআরআই ১-৫। এছাড়া প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তাদের উদ্ভাবনকৃত উচ্চফলনশীল গমের জাতের সংখ্যা ৩৮টি।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি মোট ২৯টি ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০টি উচ্চফলনশীল হাইব্রিড। সঙ্গে আছে সাদা ভুট্টা, সুইট কর্ন, বেবি কর্ন ও পপ কর্ন।
গবেষণা এবং প্রশিক্ষণে অনন্য অবদানের জন্য ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর অধীনে ‘গম গবেষণা কেন্দ্র’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ‘বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭’ অনুযায়ী, দেশের গম ও ভুট্টা গবেষণা, জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বীজ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হয়।
দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুরে প্রতিষ্ঠিত বিডব্লিউএমআরআই বর্তমানে ১৪টি গবেষণা বিভাগ, ৫টি আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র (গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, যশোর ও হাটহাজারী), ১টি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র (দেবীগঞ্জ) এবং ১টি বীজ উৎপাদন উপকেন্দ্র (ঠাকুরগাঁও) নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিডব্লিউএমআরআই সনাতনী পদ্ধতির চাষের পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ২৫টি নতুন উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, চার-ফসলভিত্তিক লাভজনক ফসল ধারা, পাওয়ার টিলার চালিত বীজ বপন যন্ত্রের মাধ্যমে এক চাষে সারিতে বীজ বপন প্রযুক্তি (যার মাধ্যমে চাষের ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমায়), ব্লাস্ট রোগের সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা, ফল আর্মি ওয়ার্ম ব্যবস্থাপনা সহ অম্লীয় মাটি সংশোধনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিডব্লিউএমআরআই।
সীমিত সম্পদ, গবেষণাগার ও যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, অপ্রতুল জনবল এবং গবেষণা মাঠের অপর্যাপ্ততা থাকা সত্ত্বেও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করে দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, বলিভিয়া ও জাম্বিয়ায় ১০টি ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের জাত অবমুক্ত করা হয়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার তরঙ্গিনী গ্রামের কৃষক মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, আগে গমের ফলন এবং উৎপাদন তুলনামূলক কম ছিল। যে পরিমাণ জমিতে গম চাষ করতাম, এখন করছি তার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ জমিতে। পূর্বে প্রতি বিঘা (৪৮ শতাংশ) জমিতে ৫ থেকে ৮ মণ ফলন হতো, বর্তমানে সেখানে প্রতি বিঘায় ৩২-৩৩ মণ পর্যন্ত গম উৎপাদিত হচ্ছে। আবার এক বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত ভুট্টার উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এবং ভালো দাম পাওয়ার কারণে কৃষকরা আবারও গম ও ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
বিডব্লিউএমআরআই জানায়, দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন, এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টন। চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিবছর ২৪ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মাহফুজ বাজ্জাজ বাসসকে বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের বিজ্ঞানীরা তাপসহনশীল, ব্লাস্ট-প্রতিরোধী, স্বল্পমেয়াদি ও জিংকসমৃদ্ধ গমের জাত এবং উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাত ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন নয়, বরং জলবায়ু সহনশীল, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও অধিক উৎপাদনশীল দানাদার ফসলের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের আমদানি-নির্ভরতা কমানো, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন