প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানী ঢাকা তথা দেশজুড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজি-বাইকের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি, তীব্র যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে, সরকার একটি সুনির্দিষ্ট সুসমন্বিত নির্দেশনা আসতে যাচ্ছে। ঢাকা সিটিতে একটি আধুনিক মাল্টিমোডাল বা বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, সরকার ইতিমধ্যে সমন্বিতভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, ব্যাটারিচালিত যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১৩ জুলাই), ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের ৭১ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার তার নোটিশে দেশের ক্রমবর্ধমান কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়, দেশের সব গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তর করার জন্য জোরালো প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো সংকট তৈরি হচ্ছে। পরিবহন খাত থেকে দেশে প্রতি বছর প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমন হয়, যার সিংহভাগই আসে সড়ক পথের ডিজেলচালিত বাস ও ট্রাক থেকে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে, তিনি স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তর করা, সিএনজি-এলএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি, এবং সবুজ হাইড্রোজেন ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
পরে, সম্পূরক প্রশ্নে শওকত আরা আক্তার ঢাকার রাস্তায় তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে দায়ী করেন। তবে তিনি একইসাথে উল্লেখ করেন যে, কম খরচে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো এবং চালকের শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ায় যাত্রী ও চালক উভয়ই এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। পরিবেশবান্ধব এই বাহনগুলোকে পুরোপুরি বন্ধ না করে, এগুলোর মান উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এনে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা, তা জানতে চান তিনি মন্ত্রীর কাছে।
সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ এই যানগুলো প্রধানত সিটি কর্পোরেশন এবং ট্রাফিক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, যেখানে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ কম রয়েছে। তবে ঢাকার সামগ্রিক যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার বসে নেই।
তিনি আরও জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই ঢাকা সিটিসহ সারা বাংলাদেশের ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণ অথবা সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা জারি করা হবে। যার আলোকেই পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন