প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সাধারণ এক রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হিসেবে শুরু করে আধুনিক তুরস্কের সর্বাধিক প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠার গল্প—রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের জীবনযাত্রা যেন এক নাটকীয় ইতিহাসের প্রতিফলন।
চড়াই-উতরাই ও নানা বাধার প্রাচীর অতিক্রম করে তিনি কিভাবে আজকের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছালেন, তা এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
সংগ্রামী শৈশব থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ
ইস্তাম্বুলের কাসিমপাসা এলাকায় এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠেন এরদোগান। ছাত্রজীবনে সংসার চালানোর জন্য রাস্তায় রুটি ও লেবুর শরবত বিক্রি করতেন এবং নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। এই সময়েই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১৯৭০-এর দশকে ইসলামপন্থী রাজনীতির যুব শাখায় যোগ দিয়ে তিনি রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
ইস্তাম্বুলের সফল মেয়র ও প্রথম চমক
১৯৯৪ সালে ওয়েলফেয়ার পার্টির ব্যানারে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ইস্তাম্বুলের তীব্র পানি সংকট সমাধান, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেন।
বিতর্কিত কবিতা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক মোড়
১৯৯৭ সালে এক জনসভায় একটি রাজনৈতিক ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তি করার কারণে তুর্কি প্রশাসনের বিরোধিতার সম্মুখীন হন তিনি। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১৯৯৮ সালে মেয়রের পদ হারানোর পাশাপাশি চার মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে এই কারাবরণ তাকে দমানোর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের চোখে এক আপসহীন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
একে পার্টি গঠন ও ২০০২ সালের ঐতিহাসিক জয়
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কট্টর ইসলামপন্থী ধারা থেকে সরে এসে ২০০১ সালে তুলনামূলক মধ্যপন্থী ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ গঠন করেন এরদোগান। ২০০২ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন অর্জন করে তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং ২০০৩ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দশকে তিনি তুরস্কের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেন এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে আমূল পরিবর্তন আনেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি দেশটির প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন এবং সংবিধান পরিবর্তন করে সব ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।
সূত্র: ব্রিটানিকা, বিবিসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন