প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (১ অক্টোবর) ফেনী সফরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। সফরের জন্য সভাস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট— এই তিনটি জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গঠন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের আড়াই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের জন্য চূড়ান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট— এই তিন জোনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা সাজানো হবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) বৈঠক করেছে।
পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের আড়াই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সব স্থানে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কতজন বিজিবি সদস্য মাঠে কাজ করবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সভা হয়েছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই কল কেটে দেন।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় থাকবে। নিরাপত্তায় এসএসএফ ছাড়াও পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। তবে মোট কতজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আগামী ১ অক্টোবর সকালে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জনসভাতে বক্তব্য রাখবেন। এরপর ফুলগাজীতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে শুরুতে খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ এবং পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরে স্থাপিত ৯৬২ দশমিক পাঁচ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেলের উদ্বোধন করবেন। পরে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন তিনি।
সূত্র আরও জানায়, এরপর দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হবেন। সেখানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, সভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো— রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোন। রেড জোনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন যারা, তাদের জন্য বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে। যারা এই কার্ড পাবেন, তারা কেবল ইয়েলো জোনে যেতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে যে এলাকা থাকবে, সেটি হোয়াইট জোন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই জোনে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী সড়ক পথে পরশুরাম যাবেন। পরে ফেরার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুতির কাজ চলছে। একই সঙ্গে পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরির প্রস্তুতি চলছে। জনসভাস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জনসভায় অংশগ্রহণকারী মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সভাস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কার কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশের এলাকাতেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। একইভাবে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর সফরের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন