প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সরকারি নিয়মনীতি মেনে ইজারা নেওয়া একটি পুকুর জোরপূর্বক দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। এই কারণে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ এবং মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানববন্ধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমএসইউ) মান্দা শাখা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সংবাদ সম্মেলনে ‘নাপিতপাড়া-পারকুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, সমিতির ২১ জন নিবন্ধিত খেটে-খাওয়া মৎস্যজীবী সদস্য সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে নাপিতপাড়া মৌজার দাগ নং ৬৫১ ও ৭৩৯-এর মোট ৯ দশমিক ৩৬ একর পুকুর ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য সরকারিভাবে ইজারা গ্রহণ করেন। ইজারা পাওয়ার পর পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ ও দখল বুঝে পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হলে, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার সীমানা নির্ধারণ করে সমিতিকে দখল বুঝিয়ে দেন।
তিনি দাবি করেন যে, সমিতির কাছে সরকার প্রদত্ত ডিসিআর (DCR), টিসিআর (TCR), ব্যাংক চালান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা আইনগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, চলতি বছর ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ও বহিরাগত ব্যক্তি পুকুরটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। মো. হেলাল উদ্দিন, সাহেব আলী ও মো. মঞ্জু নামক কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও পুকুর দখলের চেষ্টা, মাছ আহরণে বাধা সৃষ্টি, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা মানববন্ধনের আয়োজনের অভিযোগ তোলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয় যে, প্রশাসন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইনগতভাবে পুকুরের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সমিতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁদের অব্যাহত হুমকি ও হয়রানির কারণে সমিতির ২১টি দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরপূর্বক দখলচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। পাশাপাশি বৈধ ইজারার আওতায় নির্বিঘ্নে মাছ চাষ ও জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন