প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিকে, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানিয়েছেন যে, বুধবার উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে নিজেদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং তারপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলাটির মধ্যে মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সাক্ষ্য গ্রহণকালে বাদীর সাক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও মাত্র তিন দিন সময়ের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত ছয়জন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
মামলার আসামিরা হলেন: সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান। এরা সকলেই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন