প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একটি কন্যাসন্তান রুহুল আমিনের আগে থেকেই ছিল। দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার খবর শুনতেই স্ত্রী ও নবজাতককে ক্লিনিকে ফেলে উধাও হয়ে যান বাবা। নবজাতক ও স্ত্রীর কোনো খোঁজ নিচ্ছিলেন না রুহুল আমিন। ফলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেয়ে কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এগিয়ে আসেন।
এই ঘটনা যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের। এই গ্রামের রুহুল আমিনের একটি দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। ৮ জুলাই কেশবপুর শহরে মাতৃমঙ্গল নামের একটি ক্লিনিকে রুহুল আমিনের স্ত্রী মোসাম্মৎ সাজেদা (২০) আরেকটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। খবরটি জানতে পেরে রুহুল আমিন অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। এরপর থেকে তিনি ওই ক্লিনিকে যাওয়া বন্ধ করে দেন। স্ত্রী ও শিশু কন্যার খোঁজখবরও নিচ্ছিলেন না। নবজাতক ও প্রসূতিকে রাখার বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক অসহায় হয়ে পড়েন।
বুধবার (১৫ জুলাই) এই খবর পেয়ে কেশবপুরের ইউএনও রেকসোনা খাতুন ওই প্রসূতি মা ও নবজাতকের খোঁজ নেন। এর পর সাজেদাকে তার মায়ের বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার বাঙালিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেন। এ সময় প্রসূতির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, কিছু খাবার ও অন্যান্য খরচের জন্য কিছু টাকা প্রদান করা হয়। ইউএনওর অনুরোধে ক্লিনিকের মালিক জাহিদুল ইসলাম ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচারের ১২ হাজার টাকা মওকুফ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমিন নিজের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাকচালকের সহকারীর কাজ করেন। সংসারে খুব অভাব রয়েছে। এ কারণে ক্লিনিকের টাকা জোগাড় করতে পারেননি বলেই ক্লিনিকে যাননি। রুহুল আমিন দাবি করেন, আবার কন্যাসন্তান হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ নেননি, এই অভিযোগটি সত্য নয়। তিনি দ্রুত স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে বাড়ি ফিরবেন বলে জানান।
ক্লিনিকের মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নবজাতক ও প্রসূতির পরিবার এর কোনো খোঁজখবর নিচ্ছিল না। এ অবস্থায় তিনি বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন। ক্লিনিকের পুরো বিল মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও জানতে পেরে সন্তানসহ ওই প্রসূতিকে তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, প্রসূতি মা ও শিশুকে তার মায়ের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শিশুটির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কন্যাসন্তান ও মাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ওই মা ও শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরে দেওয়া হবে। তিনি further বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা সব সময় অবহেলিত থাকে, বিশেষ করে কন্যাশিশুরা অনেক সময় অবহেলিত থাকে। এ ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। সেই বিবেচনা থেকেই তিনি এ উদ্যোগ নেন।
সাজেদের মা রাফিজা বিভিন্ন বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বলেন, তার জামাতা স্ত্রী ও সন্তানের তেমন খোঁজ নেয় না। প্রথম সন্তানের জন্মের সময়ও হাসপাতালের খরচ টাকাও দেয়নি। রাফিজা বলেন, ৮ জুলাই ভর্তি হওয়ার পর রোববার পর্যন্ত তিনি ক্লিনিকে মেয়ের পাশে ছিলেন। কাজের ব্যস্ততায় শেষ দুই থেকে তিন দিন খোঁজ নিতে পারেননি। তার মেয়ে যাতে শ্বশুরবাড়িতে ভালো থাকতে পারে, ইউএনও সে ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন