প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হঠাৎ করে ইরানের আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্তযান দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে একটি উজ্জ্বল আলোকিত বস্তু তেহরানের আকাশে ভেসে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে এবং এটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।
এই ভিডিওগুলি নিয়ে ইরানে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি ইউএফও, ড্রোন, বিমান, নাকি অন্য কিছু? তবে এখন পর্যন্ত এর সঠিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে ধারণ করা বস্তুটি আসলে কী, সে সম্পর্কে ইরানের কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি।
মজার বিষয় হলো, প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে তেহরানে একটি ইউএফও দর্শনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও রাতের আকাশে রহস্যময় একটি বস্তু দেখা গেছে।
তেহরানের ১৯৭৬ সালের ইউএফও রহস্য
এই সময়টি এই রহস্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। ১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, তেহরানের আকাশে একটি আকাশযান সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। সেটি পরবর্তীতে নথিভুক্তও করা হয়েছে। প্রায় পঞ্চাশ বছর পর এই নতুন ফুটেজ সামনে এসেছে।
ঘটনাটি শুরু হয়েছিল শেমিরান এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য থেকে। তারা জানায়, আকাশে একটি অদ্ভুত উজ্জ্বল বস্তু দেখেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি গোপনীয়তামুক্ত প্রতিবেদনে ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান বিমানবাহিনী এবং দুটি এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমানের প্রতিক্রিয়ার বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম এফ-৪ বিমানটি বস্তুটির কাছাকাছি পৌঁছালে এর যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে নেওয়ার পর সিস্টেমগুলো আবার কাজ করা শুরু করে। এরপর তদন্তের জন্য পাঠানো হয় দ্বিতীয় একটি এফ-৪ বিমান। রাডারে বস্তুটি শনাক্ত করে সেই বিমান।
দ্বিতীয় বিমানের ক্রুরা আরেকটি অস্বাভাবিক ঘটনার কথা জানান। তাদের মতে, মূল বস্তুটি থেকে একটি ছোট অংশ আলাদা হয়ে যায়। পাইলট সেটির মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে ঠিক সেই মুহূর্তে বিমানের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যায়।
১৯৭৬ সালের এই ঘটনা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নথিতে লিপিবদ্ধ হয়। এটি সামরিক বিমান জড়িত ইউএফও সংক্রান্ত ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত ঘটনা হিসেবে এখনো বিবেচিত হয়।
সামাজিক মাধ্যমে নানা মত
সামাজিক মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারীর দাবি, এই আলো একটি সামরিক ড্রোন অথবা একসঙ্গে উড়তে থাকা একাধিক ড্রোনের হতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, এটি কোনো বিমান অথবা ইউএফও হতে পারে। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এই ফুটেজ নিয়ে নেটদুনিয়ায় নানা মজার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, এটি আলাদিনের উড়ন্ত গালিচা, আবার কেউ বলছেন, এটি চীনের এলইডি বাতি।
একজন লিখেছেন, ‘এই ইউএফওর রংগুলো দেখে মনে হচ্ছে এটা নিশ্চয়ই কোনো নারী এলিয়েনের উড়ন্ত যান। দেখুন তো, কত সুন্দরভাবে রঙিন আলো দিয়ে নিজের নভোযানটি সাজিয়েছে সে।’
আরেকজন মজা করে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা করাতেই বুঝি এসেছে এলিয়েনরা।’
তৃতীয় একজনের প্রশ্ন ছিল আরও বাস্তবসম্মত, ‘এলিয়েনরা এত সস্তা আরজিবি লাইট কেন ব্যবহার করছে?’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন