প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার একটি সড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ ব্যবহার করে মেকাডম নির্মাণ করা হচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সড়কের অবস্থান spot visit করার পর অভিযোগের সত্যতা সত্যি পাওয়া যায়। এর পর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন এবং নিয়ম অনুযায়ী খোয়া ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করেন।
বিষয়টি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক ও চৌধুরী বাড়ি কানেক্টিং সড়কের। প্রকল্পের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং এটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস মোস্তফা অ্যান্ড সন্স।
এছাড়াও, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়কটির সংস্কার চলমান রয়েছে, এবং কাজটি পরিচালনা করছেন ঠিকাদার ফিরোজ আলম। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ উঠেছে যে, রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও চৌধুরী বাড়ি কানেক্টিং সড়কে এখনও কোনো ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি।
তাদের এই দাবির ভিত্তিতে, সড়ক সংস্কারের চেয়ে ড্রেন নির্মাণই বেশি জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। ড্রেনের অভাবে সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে দুই পাশে অবস্থানরত বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার শিকার হবেন।
জনসাধারণের আরো অভিযোগ রয়েছে যে, সড়ক নির্মাণের নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে না। সড়কটির প্রস্থ ১২ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও তা ৯ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে।
অধিকন্তু, সাব-বেজের জন্য খোয়ার পরিমাণ যথেষ্ট নয়, বরং বালুর পরিমাণ বেশি। সড়কের পাশেই পৌর আইন অমান্য করে অনেকেই বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন এবং তারা রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য নিরাপত্তা দেয়াল ভাঙছেন না বা প্রয়োজনীয় জমি ছাড়ছেন না।
যদিও বেশিরভাগ মানুষ ড্রেন ও সড়কের জন্য জমি দিতে রাজি হয়েছে, কিন্তু ঠিকাদারের এক আত্মীয় রাজি নন। সাধারণ জনগণের এ অবস্থা সড়কটি নির্ধারিত প্রস্থে নির্মাণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক অভিযোগে দেখা গেছে যে, রেহান উদ্দিন সড়কের পাশের ড্রেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
একই এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান, মমিনসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ উল্লেখ করেছেন যে, সড়কের দুই পাশের মাটি তুলে খোয়ার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কারণে, পুরো সড়কে খোয়ার তুলনায় রাবিশের পরিমাণ বেশি উঠছে এবং সড়কটি নির্ধারিত প্রস্থে নির্মাণ করা হচ্ছে না।
পৌর কর্তৃপক্ষের শুরু থেকেই তদারকির অভাব ছিল, যা ঠিকাদারকে অনিয়ম করার সুযোগ দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ডিবি রোডের কাজেও একইভাবে অনিয়ম ঘটেছে এবং ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ দেখা গেছে। যদি যথাযথ তদারকি থাকত, তবে এসব অনিয়মের সুযোগ অনেকটা পরিহারযোগ্য হতো।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদার ফিরোজ আলম মন্তব্য করেছেন যে, সাব-বেজের কাজ আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে, খোয়ার পরিমাণ নিয়ে তার কাছে সঠিক তথ্য নেই এবং তিনি বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম আসলে হচ্ছে না।
জনসাধারণের বাড়িঘর বা দেয়াল ভাঙার দায়িত্ব তাদের নয় বলেও তিনি জানান। তবে, সড়ক প্রশস্ত করার জন্য যদি জনগণ দেয়াল ভেঙে ফেললে, তিনি শ্রমিক সাপ্লাই দেবেন বলে জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়কটির সংস্কারকাজ চলছে এবং এ বিষয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করার পরও ঠিকাদার তা আমলে নেননি।
ঘটনাস্থলে গিয়েও অযত্নের সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলে, ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কাজ বন্ধ রেখে নিম্নমানের উপকরণ অপসারণ এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী খোয়া ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন