প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শিক্ষাজীবনের বহু আকাঙ্ক্ষিত সমাবর্তনের দিনগুলো আসন্ন, ঠিক সেই সময় চিকিৎসকদের পূর্বাভাসকে অস্বীকার করে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান। প্রসূতি হওয়ার মাত্র ১০ দিন পর, সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরে সমাবর্তন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সবাইকে বিস্মিত করেছেন ২৪ বছর বয়সী তরুণী গ্রেস শিমচ্যাক।
এই ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিগ র্যাপিডসে অবস্থিত ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। গ্রেসের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মাতৃত্বের এই অভূতপূর্ব মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, গ্রেস শিমচ্যাক, যিনি মিশিগানের বাসিন্দা, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান বা গ্র্যাজুয়েশন ১৫ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তিন দিন পর সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল, তবে ৬ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই জন্ম নেয় মেয়ে অ্যানাবেল। সদ্য প্রসূতি হয়েও, দীর্ঘদিনের কষ্টে অর্জিত ডিগ্রি গ্রহণের বিশেষ মুহূর্তটি তিনি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাননি।
অনুষ্ঠানের দিন, মাত্র ১০ দিন বয়সী সদ্যোজাত কন্যাকে একটি বেবি ক্যারিয়ারে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে বেঁধে নেন গ্রেস। তার ওপর দিয়েই পরে নেন গ্র্যাজুয়েশন গাউন। যখন গ্রেস মঞ্চে হেঁটে নিজের অনারারি ডিগ্রি নিচ্ছিলেন, পুরো সময়টি ছোট্ট অ্যানাবেল মায়ের উষ্ণতায় শান্তভাবে ঘুমিয়ে ছিল।
গ্রেস ফেরিস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশনে’ অসাধারণ ফলাফলের জন্য ‘ম্যাগনা কাম লডে’ সম্মাননাসহ ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, সংসার ও মাতৃত্বের কঠিন দায়িত্ব সমানভাবে পালন করেছেন। সমাবর্তন শেষ হওয়ার পর, তিনি মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে শিশুদের একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে গ্রেস বলেন, "ডিগ্রি অর্জনের পেছনে আমার বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ছিল।" তিনি আরও বলেন, "মেয়ে আগেই জন্ম নিলেও সহপাঠীদের সাথে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আমি সরিনি, আবার এক মুহূর্তের জন্যও সদ্যোজাতকে নিজের কোলছাড়া করতে চাইনি।"
পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পাতায় গাউনের ভেতর ছোট্ট অ্যানাবেলকে জড়িয়ে রাখা গ্রেসের ছবিটি প্রকাশিত হলে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নিজের এই অভিজ্ঞতা অন্য সব ব্যস্ত ও সংগ্রামী বাবা-মাকে পড়াশোনা শেষ করার প্রেরণা জোগাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন