প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও এর পরবর্তী সময়ে লঘুচাপের দূরবর্তী প্রভাবে প্রবাহিত টানা ৬ দিনের বর্ষণে দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদগুলোতে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতিতে নেমে আসা এমন দুর্যোগের কারণে বৈরিতার কবলে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। ফলে সাধারণ জীবনযাত্রায় ধীর গতি নেমে এসেছে। জনজীবন এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্য চাষিরা। প্রবল বর্ষণে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে। তাই মৎস্য বিভাগ বলছে, কলাপাড়া উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা। সেখানকার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুষলধারায় চলমান বৃষ্টিতে বাড়তি পানিপ্রবাহের কারণে অন্তত চার শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতের সঙ্গে অনেক কৃষকের স্বপ্ন ভেসে গেছে। বিশেষ করে মিঠাপানির জলাশয় থেকে অসংখ্য চাষির মাছ বেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক মৎস্য ঘেরের বাঁধ ভেঙে গেছে। আবার কোথাও পুকুর ভেসে মাছ বের হয়ে গেছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মধ্যে উপজেলার চাকামইয়া, চম্পাপুর, নীলগঞ্জ, ধুলসার, ধানখালী ও মহিপুরের অসংখ্য মৎস্য চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তাদের বক্তব্য হলো, বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকলে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি গো খাদ্য সংগ্রহেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। চম্পাপুর ইউপির চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৎস্য চাষি হুমায়ূন কবির বলেছেন, তিন একর জমিতে চাষ করা মাছের ঘের তলিয়ে গেছে, সব মাছ ভেসে গেছে। ঘেরে রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছি, ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া আমির হোসেন, মতি গাজী, ছলেমান, জিয়ান তালুকদার, শুভ গাজী, টল এনামুলসহ আরো বহু চাষির মৎস্য ঘেরও তলিয়ে গেছে।
চাকামইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবর ফকির বলেন, আমার ইউনিয়নে এখন অনেক এলাকায় অচলাবস্থা বিরাজমান। নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িসহ ক্ষেত-খামার সব প্লাবিত হয়েছে। অন্তত দুই শতাধিক ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে, যা অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকদিন গোয়ালের গরু ও ছাগল নিয়ে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কলাপাড়ার খেপুপাড়া রাডার স্টেশন ও পিবিও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক জয়দীপ কবিরাজ কালবেলাকে জানান, গত ৪ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩০৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপুসাহা কালবেলাকে বলেন, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আমরা এখন পর্যন্ত চার শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুরের তলিয়ে যাওয়ার তথ্য পেয়েছি। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করে এ সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করছি। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আমরা একটি তালিকা তৈরি করছি। পরে এ তালিকা মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন