প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। আইনটিতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি বাধ্যবাধকতা থাকবে। আর এই রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি নির্ধারিত শর্তের তালিকা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে একটি পর্যালোচনা সভায় এই তথ্য তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভাটি সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নানান দিক নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। এখানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ করেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। তবে সৌর বিদ্যুতের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাটারি রিচার্জ করা হলে, সেই রিকশাকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, যেভাবে রিচার্জ হবে, তা অবশ্যই সৌরবিদ্যুতে হতে হবে এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত করবে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলো। আমরা বিধিমালা তৈরির জন্য একটি মিটিং করেছি, বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো আমাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভার আওতায় রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হবে। সেখানে কিছু শর্ত সম্প্রসারণ করা হবে। সৌরবিদ্যুতের বাইরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না, এবং নবায়নও করা হবে না।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে এদের রেজিস্ট্রেশন বিআরটিএ-র মাধ্যমে হবে না; বরং সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে হবে এবং জাতীয় সংসদে এর জন্য আইন পাস করা হয়েছে। সেই আইনটির আলোকে আমরা বিধিমালা তৈরি করছি। রেজিস্ট্রেশন ফি এবং নবায়ন ফির পরিমাণ কতো হবে? রেজিস্ট্রেশন এবং নবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বুয়েট সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি এবং জেলা পর্যায়ের আমাদের যে ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটগুলো রয়েছে, সেখানকার অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে। এই ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো একটি ফি পাবে।
তিনি কিছু পরিস্কার করে উল্লেখ করেন, এই ফিও আমরা নির্ধারণ করে দেবো এবং সেই ফির মাধ্যমে তারা ফিটনেস সার্টিফিকেটটি পাবেন। এই সার্টিফিকেট নিয়ে এসে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাকে দিলে, আমরা একটি নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে দেবো; সেই ফি নিয়ে তারা তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন। এক বছর পর আবার নবায়ন করতে গেলে, তখনও ফিটনেস দেখাতে হবে এবং নতুন করে নবায়ন করতে হবে।
শাহে আলম আরও জানান, ঢাকাকে আরো সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য আটটি জোনে বিভক্ত করা হবে। দক্ষিণ ও উত্তরে চার করে মোট আটটি জোন হবে। এই আটটি জোনের রিকশাগুলোকে আমরা ই-রিকশা বন্দে পরিচয় করবো। আইনে এভাবেই ই-রিকশা বলা আছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব রিকশার আটটি জোন থাকবে এবং প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা আলাদা রং থাকবে। একটি জোনের ই-রিকশা বা ইলেকট্রিক রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না; এজন্য আলাদা আলাদা রং রাখা হবে। এগুলোকে ‘ইফেন্সিং’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হবে। জিও ফেন্সিংয়ের আওতায় এগুলোকে আনা হবে। এর জন্য ইতোমধ্যেই ট্রাফিক পুলিশ ও আমাদের সিটি কর্পোরেশন মিটিং করেছে। আমাদের বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। বিধিমালাটি অনুমোদন হলেই বিস্তারিত জানানো হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, নতুন আইন কার্যকর করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথ চেষ্টা করবে। কোন রুটে কে পারবে বা পারবে না, এটাও বিধিমালায় থাকবে। সৌর বিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ চার্জে রিচার্জ করার ক্ষেত্রে জরিমানা আইনে উল্লেখ থাকবে। এই সব বিষয় নিয়েই আমাদের বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আমরা এটি উপস্থাপন করতে পারবো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন