প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে একটি চিকিৎসাবাহী বিমান নিখোঁজ হয়ে গেছে, যা ছয়জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল। বিমানটি বারমুডা থেকে বোস্টনের দিকে যাত্রা করার সময় হঠাৎ করে মাঝ আকাশে রেডিও এবং রাডার—দুই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং পাইলট জরুরি পরিস্থিতির কথা জানান।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি শুরু করে। পরবর্তীতে নানটাকেট দ্বীপের উপকূলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। তবে ছয় আরোহীর সন্ধানে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, গালফস্ট্রিম জি-১০০ বিমানটির সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সময় রাত ১টার পর এর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
মার্কিন কোস্টগার্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগ জানায়, ম্যাসাচুসেটসের নানটাকেট দ্বীপের উপকূলে আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে বিমান, হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ১টা ৩০ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল।
কোস্টগার্ডের প্রকাশিত বিমানের পরিচিতি অনুযায়ী, এটি কানাডাভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিমান। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশ থেকে রোগীদের চিকিৎসার পর নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবাহী বিমান পরিচালনা করে।
প্রতিষ্ঠানটির ফ্লাইট পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ জানান, বিমানে দুই পাইলট ও দুইজন চিকিৎসাকর্মী ছিলেন। তারা সবাই কানাডার নাগরিক। এছাড়া বিমানে একজন রোগী ও তার একজন স্বজনও ছিলেন, তবে তারা কানাডার নাগরিক নন।
উড্ডয়নের পর বিমানটির উচ্চতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ১১ হাজার ফুটে নেমে আসে। কিছু সময় ওই উচ্চতায় অবস্থান করার পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রেডিও যোগাযোগের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির পাইলট ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাইলটকে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন কি না জানতে চাওয়া হয়। পাইলটের জবাব স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।
পরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ নিশ্চিত করে যে পাইলট জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন। এরপর জরুরি উদ্ধারকারী দলকে বিমানটির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। তখন বিমানটিতে বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
এর কিছুক্ষণ পর উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, বিমানটির রেডিও ও রাডার—দুটোরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন