প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর নামে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবর্দী গ্রামের ৫০ বছর বয়সী ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা ভুয়া ভিসা ও বিমানের টিকিট প্রদান করেছেন।
এদিকে, বিমানবন্দরে গিয়ে জাল কাগজপত্র নিয়ে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ার পর টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে থানায়।
গত ৮ অক্টোবর, সোনারগাঁ থানায় ভুক্তভোগীর ছেলে রিফাত হোসেন (২৭) বাদী হয়ে ৪ জন নামীয় ও আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেশী ১নং বিবাদী মো. কবির হোসেন (৪৫) এবং তার সহযোগী সুমি আক্তার (৩৭), জুলেখা আক্তার (৭১) ও মো. জাহাঙ্গীর (৪০) মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ১৯ মে তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে কবির হোসেন ভুক্তভোগীকে ভিসা, বিমানের টিকিট ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রদান করেন। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো জাল বা ভুয়া বলে শনাক্ত করেন এবং ইকবাল হোসেনকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুয়া ভিসার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক চক্রটি নানা টালবাহানা শুরু করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বিবাদী কবির হোসেন টাকা দিতে অক্ষম হলে জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং পাসপোর্ট ও জাল টিকিট নিয়ে বাড়িতে যেতে বলেন। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি বাদীর বাড়িতে গেলে বিবাদী কবির হোসেন তাদের তাড়িয়ে দেন এবং হুমকি দেন। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অন্য বিবাদীদের কাছে বিচার চাইলে তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বর্তমানে প্রধান বিবাদী মো. কবির হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন।
আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে থানায় অভিযোগ দাখিল করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের সদস্য এবং এলাকায় আরও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন