প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতারা কিনছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য গণশুনানি আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অজুহাত দেখিয়ে বারবার দাম বাড়াচ্ছেন, ফলে ভোক্তাদের পকেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দাম বাড়ানোর পরেও নতুন নতুন অজুহাতে বেশি দামে বিক্রি করার আশঙ্কা রয়েছে।
এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে কয়েকটি হাত বদল হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের কমিশন বাণিজ্য চলে। সিন্ডিকেটের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পায়।
সিলিন্ডার কিনতে আসা এক ভোক্তা মন্তব্য করেন, ‘আগে আমাদের সিন্ডিকেট ঠিক করতে হবে। জায়গামতো ঠিক করতে পারলেই দোকানদার কম দামে পেলে কম দামে বিক্রি করতে পারবেন।’
সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা ছিল। অক্টোবরে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবার সিলিন্ডারের প্রতি আরও ৩০০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
গ্রাহকদের মধ্যে এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক ভোক্তা অভিযোগ করেন, ‘এটা একটা সিন্ডিকেটের মতো। আরেকটা বিষয় হলো, টাকা বেশি দিলে পাওয়া যায়, কম দিলে পাওয়া যায় না।’
ডিলার ও বিক্রেতাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে সিলিন্ডার কিনতে। এক বিক্রেতা জানান, ‘আমাদের ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ি আসে না। তখন অন্যভাবে সিলিন্ডার আনতে হয়। সেখানেও আমাদের গাড়ি পাঠাতে হয়। সব মিলিয়ে কিছুটা বাড়তি টাকা নিতে হচ্ছে। সামনে শীত আসছে। শীতের সময় একটা সংকট থাকে। তখন দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।’
এদিকে, ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাবের দাবি, ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে আবারও দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দাম বাড়ালেও আমরা নির্ধারিত দামে পণ্য পাব কি না, তা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, এর আগেও দাম বাড়ানোর পর নির্ধারিত দামে পণ্য পাওয়া যায়নি। তখন ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে সামনে আনেন।’
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি দফতরগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত ব্যয়, কমিশন ও মুনাফার হিসাব স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ক্যাব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন