প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগের কারণে এবং প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত একজনসহ তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। এদের মধ্যে নুরন্নবী ও সোহেল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২-এর বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে, জুলফিকার আলী বর্তমানে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, এবং সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিআইডির বিশেষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব এ বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কর অঞ্চল-নোয়াখালীর বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কয়েকজন প্রার্থীর হাতের লেখায় অসংগতি ধরা পড়লে তখন যাচাই-বাছাইয়ের সময় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তিন প্রার্থী স্বীকার করেন যে, তাদের হয়ে অন্য কেউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানের মাধ্যমে ওই তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২২ জুন সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।
তদন্তে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
আবু তালেব আরও জানান, ৩০ জুলাই পৃথক অভিযানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশে পালানোর সময় জুলফিকার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরও জানান হয়েছে যে, সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন