প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ল্যানসিংয়ে নদীর পাশে হাঁটার পথে গত এক বছরে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশ এই মৃত্যুগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, ঘটনাগুলোর পেছনে একটি ধারাবাহিক হত্যাকারীর হাত থাকতে পারে।
ল্যানসিংয়ের পুলিশপ্রধান রবার্ট ব্যাকাস গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সবাই গৃহহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, কিন্তু বাকি দুজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশপ্রধান বলেন, ল্যানসিংয়ে কোনো ধারাবাহিক হত্যাকারী রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। সব ঘটনাই সক্রিয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মৃত্যুগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট ছুরিকাঘাতে ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লুস্কের মৃত্যুর ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী এডওয়ার্ড স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অন্য মৃত্যুগুলোর ঘটনায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়নি। তাঁর আইনজীবী এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
পুলিশপ্রধান জানান, বাকি চারজনের শরীরে মুখমণ্ডলে ভোঁতা কোনো বস্তুর আঘাতে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। তবে এসব ঘটনায় কোনো অস্ত্র শনাক্ত করা যায়নি।
নিহত চারজন হলেন ৫৪ বছর বয়সী জিনো চুইনার্ড, ৭০ বছর বয়সী ডেনিস ডানব্যাক, ৫৭ বছর বয়সী রবার্ট স্মিথ ও ৫৭ বছর বয়সী লুইস উডরাফ। চুইনার্ডের মৃত্যু ঘটে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর। ডানব্যাককে গত ৯ জুলাই অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তিন দিন পর তার মৃত্যু ঘটে। ১৩ জুলাই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রবার্ট স্মিথকে, চার দিন পর তিনি মারা যান। ৩০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় উডরাফকে এবং ১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার কাছাকাছি নদীপথের প্রায় দেড় মাইল দীর্ঘ অংশে এসব ব্যক্তিকে পাওয়া গিয়েছিল।
পুলিশপ্রধান ব্যাকাস বলেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে কিছু মিল থাকলেও তদন্তে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না এবং সেখানে কোনো নজরদারি ক্যামেরা বা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। হামলাগুলো ভোরের দিকে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নদীপথের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি ক্যামেরাসহ বিশেষ যান বসানো হয়েছে। পাশাপাশি, রাতের পালায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের ওই এলাকায় টহল দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়ে ডানব্যাকের মৃত্যুর পর জনসাধারণকে সতর্ক করা উচিত ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশপ্রধান বলেন, শুরুতে তার আঘাতগুলো হামলার কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট ছিল না। হাসপাতালের কর্মীরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, চিকিৎসাজনিত সমস্যায় তার মৃত্যু হতে পারে। তবে পুলিশ বিভাগের গুরুতর অপরাধ তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করে এবং সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে।
পুলিশপ্রধান জানান, ডানব্যাকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন