প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলার একটি ঘটনায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রী ‘হৃদরোগ’ বলে দাবি করেছিলেন। তবে, মৃতের মুঠোফোনে লুকানো একটি চ্যাটের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা প্রকাশ পায়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকায়। নিহত যুবকের নাম তালিব, যার বয়স ৩০ বছর। চার বছর আগে বিউটিশিয়ান ইলমার সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার দিন, ইলমা তার বড় ভাই আকরামকে জানায়, তালিব কাজ থেকে ফিরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বিছানায় ঢলে পড়েন এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।
আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে ভেবে, শোকাহত পরিবার কোনো সন্দেহ ছাড়াই ধর্মীয় রীতি মেনে তালিবের মরদেহ দাফন করে। তবে, দাফনের কিছুদিন পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জাগতে শুরু করে।
গত ১ অক্টোবর, তালিবের চাচাতো ভাই রইস তথ্য খোঁজার জন্য ইলমার বাড়িতে যান। তালিবের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না; ইলমা সেটি কাপড়ের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে, রইস তল্লাশি চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করেন।
ফোনের মেসেজ ঘাঁটতে গিয়ে রইস চাঞ্চল্যকর তথ্য আবিষ্কার করেন। সেখানে আমান নামের এক যুবকের সঙ্গে তালিবের তীব্র বাদানুবাদের চ্যাট ছিল, যেখানে তালিব স্পষ্টভাবে আমানকে তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেছিলেন।
এই প্রমাণের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা ইলমাকে চাপ দিয়ে জেরা শুরু করলে তিনি ভেঙে পড়েন এবং স্বামীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তিতে ইলমা জানান, পারিবারিক কলহের কারণে তালিব প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর, এক বিবাদের পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পরকীয়া প্রেমিক আমানকে ডেকে পাঠান। আমান তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে পৌঁছান।
এরপর তিনজন মিলে তালিবকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমান গলার ওড়না পেঁচিয়ে তালিবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার পর, তালিবের মৃত্যুর পর তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমান।
কোতোয়ালি অঞ্চলের সার্কেল অফিসার সংগ্রাম সিং জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার কবর থেকে তালিবের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
অভিযুক্ত স্ত্রী ইলমাকে বর্তমানে পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত প্রেমিক আমানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন