প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনের কারণে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ সময়ে ভাঙনের করাল গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ‘মন্ডলপাড়া জামে মসজিদটি’ আজ।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে তিস্তা নদী যখন প্রলয়ংকরী রূপ ধারণ করে, তখন মসজিদটি টিকতে পারে নি এবং এটি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙনের আতঙ্ক অনেক বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত几 দিন ধরেই বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে তিস্তা নদীর ভাঙন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে মন্ডলপাড়া জামে মসজিদটি ছিল তিস্তার তীরঘেঁষে, চরম ঝুঁকিতে। নদী ভাঙনের গতি এত তীব্র ছিল যে, চরাঞ্চলের মানুষ ভিটেমাটি ও মসজিদ রক্ষার কোনো সুযোগই পাননি। চোখের সামনেই বুধবার বিকেলে পুরো মসজিদ ভবনটি তিস্তার পেটে চলে যায়।
চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার আলী আক্ষেপ করে বলেছেন, “আমাদের একটাই প্রার্থনা ছিল ঘরবাড়ি যাক, অন্তত আল্লাহর ঘরটা যেন বেঁচে যায়।” কিন্তু রাক্ষুসে তিস্তা তা-ও কেড়ে নিয়ে গেছে। এখন আমরা কোথায় নামাজ পড়বো?
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করছেন যে, প্রতি বছরই নদী ভাঙনের কারণে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানচিত্র ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ভিটেমাটি, আবাদি জমি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। অথচ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ এখনও তারা দেখতে পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে, চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের আরও বহু বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন