প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা একটি সড়ক দুর্ঘটনার পরিণতি হিসেবে ঘটে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। এই তথ্য দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) হামেদান-সানানদাজ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগামী একটি জ্বালানি ট্যাংকার বহনকারী লরির ব্রেক বিকল হয়ে গেলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী সানানদাজের গভর্নর জানিয়েছেন, লরিটির ব্রেক ব্যবস্থায় মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি ছিল, যার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ইরানে যাত্রীবাহী বাস এবং জ্বালানি ট্যাংকারের মধ্যে এমন বিধ্বংসী দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০১৮ সালে সানানদাজ এলাকায় যাত্রী তোলার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসকে চলন্ত ট্যাংকার ধাক্কা দিলে অন্তত ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। জরাজীর্ণ সড়ক, অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিং এবং মেয়ারোত্তীর্ণ গণপরিবহনের কারণে দেশের সড়ক ব্যবস্থা ক্রমশ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। দুর্বল ট্রাফিক আইন এবং পুরোনো অবকাঠামোর কারণে দেশটির মহাসড়কগুলো দিনে দিনে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তেহরানভিত্তিক সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউনের ২০১৭ সালের মে মাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ মানুষ আহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন