প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গুগল বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টধারীরা জেমিনি ফ্ল্যাশ ও জেমিনি প্রো মডেল ব্যবহার করতে পারবেন না। এই পরিবর্তনের ফলে বিনামূল্যের ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মডেল ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন।
গুগলের সাপোর্ট পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেমিনি অ্যাপ বা ডেস্কটপ সংস্করণে একাধিক মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ৯ অক্টোবরের পর বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে করা সব প্রশ্নের উত্তর দেবে শুধুমাত্র জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট।
জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইটকে গুগল তুলনামূলকভাবে কম খরচের মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। এর চেয়ে বেশি সক্ষম ফ্ল্যাশ মডেল। জটিল কাজ ও উন্নত যুক্তি বিশ্লেষণের জন্য প্রো মডেল তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া, পরিবর্তনের প্রভাব শুধু বিনামূল্যের ব্যবহারকারীদের ওপরই নয়, গুগলের এআই প্লাস গ্রাহকদের ওপরও পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে মাসে ৫ ডলারের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের সুবিধা হারাবেন।
গুগলের দাবি, জেমিনি ৩.১ প্রো জটিল গণিত ও কোডিংয়ের কাজে অধিক সক্ষম। পাশাপাশি, টেক্সট, ফাইল, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে এর বোঝার ক্ষমতাও অন্য মডেলের তুলনায় বেশি। এর ফলে, কোডিং, পড়াশোনা কিংবা বিপুল পরিমাণ নথি বিশ্লেষণের কাজে জেমিনি ব্যবহারকারীদের আরও ব্যয়বহুল সাবস্ক্রিপশন নিতে হতে পারে।
গুগল এআই প্রোর মাসিক খরচ ২০ ডলার। আর আরও বেশি ব্যবহারের সীমা থাকা এআই আল্ট্রা প্ল্যানের জন্য মাসে অন্তত ১০০ ডলার খরচ করতে হবে।
এদিকে, মডেল ব্যবহারে নতুন ‘এফোর্ট লেভেল’ সুবিধাও যুক্ত করছে গুগল। ব্যবহারকারীরা লো, মিডিয়াম ও হাই-এই তিনটি স্তর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন। স্তর যত বাড়বে, মডেল তত বেশি বিশদ ও গভীরভাবে কাজ করবে। তবে বেশি এফোর্ট লেভেল ব্যবহারে নির্ধারিত ব্যবহারের সীমাও দ্রুত শেষ হবে।
এআই আল্ট্রা গ্রাহকদের জন্য আরও উন্নত সুবিধা থাকবে। তারা জেমিনির সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য ‘ডিপ থিংক’ অপশন পাবেন। এছাড়া, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনি ৪ আর্গন উন্মুক্ত হলে এআই আল্ট্রা গ্রাহকরাও সেটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে মডেলটি শুধুমাত্র গুগলের ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর সরকার ও বিশ্বস্ত অংশীদারদের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত রয়েছে।
জেমিনি ফ্ল্যাশ সাধারণত দ্রুত ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া, লেখা তৈরি ও সম্পাদনা, অনুবাদ, ছবি বিশ্লেষণ, তথ্য সংক্ষেপ করা এবং সাধারণ কোড লেখা বা বিশ্লেষণের মতো কাজ করা যায়।
অন্যদিকে, জেমিনি প্রো তুলনামূলক জটিল ও বিশ্লেষণধর্মী কাজের জন্য তৈরি। জটিল গণিত ও যুক্তিভিত্তিক সমস্যা সমাধান, কোডিং, বড় নথি বিশ্লেষণ এবং টেক্সট, ছবি, ফাইল ও ভিডিও থেকে তথ্য বিশ্লেষণে এটি বেশি সক্ষম।
শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বড় নথি বিশ্লেষণ, বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং পড়াশোনার সহায়তায় জেমিনি প্রো ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে, সফটওয়্যার নির্মাতারা কোড তৈরি, ভুল শনাক্ত ও কোড বিশ্লেষণের কাজেও এটি ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, দ্রুত উত্তর, সাধারণ লেখালেখি, অনুবাদ কিংবা দৈনন্দিন তথ্যভিত্তিক কাজের জন্য জেমিনি ফ্ল্যাশ বেশি উপযোগী।
সূত্র: এনগ্যাজেট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন