প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালে তুচ্ছ কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকান ভাঙচুর, হামলা এবং দুই নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ব্রজমোহন কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সহ তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার সময়ে দোকান থেকে টাকা ছিনতাইয়েরও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে নগরীর নতুন বাজার মরকখোলার পুল এলাকায়। ঘটনায় এলাকায় বিক্ষুব্ধ কিছু মানুষ নতুন বাজারে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং পরে হামলাকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে ঝাড়ুমিছিল করেছে। এই ঘটনায় আহত দুই নারী, রেনু বেগম ও মালা আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রেনু বেগম জানাচ্ছেন, দুপুরের দিকে কাউনিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় ছাত্রদলের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। যাদের সাথে ঝামেলা হয় তাদের দীর্ঘদিন আমাদের রেস্তোরায় খাওয়া-দাওয়া করতো এবং তারা দোকানের সামনে দাড়াতো, সেই অভিযোগ তুলে আমাদের রেস্তোরায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন সহ তাঁর অনুসারীরা হামলা চালায়।
৩৫-৪০টি মোটরসাইকেল নিয়ে ৭০-৮০ জন ছাত্রদল কর্মী এসে হামলা চালায়। রেনু বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকালে তাঁকে এবং তাঁর বোনকে শাড়ি ধরে টেনে হিচড়ে মারধর করা হয়েছে এবং রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের দ্বারা তাঁদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে। এই হামলা চলাকালীন ছাত্রদলের সদস্যরা তাঁর দোকানের খাবার রাস্তায় ফেলে দেন। রেনু বেগম তাঁর দাবি উত্থাপন করেছেন যে, তিনি চান এর সঠিক বিচার হোক। রেনুর বোন মালা আক্তারের অভিযোগ, তাঁরা নারী হওয়া সত্ত্বেও প্রাণে মারধর সহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়াও তাঁদের ক্যাশ বাক্স থেকে ৬,০০০ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। তাঁরা জানতে পেরেছেন, বিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি সহ সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাতুল, ওয়ালিউল ইসলাম তামিম এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিমুল ফেরদৌস হাসান হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে, নতুন বাজার সড়ক আটকে হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। পুলিশ ও মহানগর ছাত্রদল নেতারা এসে বিক্ষোভকারীদের বিচারের আশ্বস্ত করে সরিয়ে দেয়। কিন্তু স্থানীয়রা হামলাকারী বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগের ব্যাপারে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, সোমবার দুপুরে তাদের বিএম কলেজ ছাত্রদল কর্মী ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহকে মরকখোলা পুলের নিচে বসে একদল সন্ত্রাসী বেধরক মারধরকারী করেছে। ঐ ছেলে বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছে।
সন্ধ্যায় বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থী থানায় অভিযোগ দিতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ দেওয়ার পথে হামলাকারী একটি গ্রুপ ঐ শিক্ষার্থীর উপর আবার হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য ছিল বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, "আমরা কারো উপর হামলা করিনি, মিথ্যা খবর রটানো হচ্ছে।" বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, ছাত্রদল কখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কেউ নারী হামলা বা শ্লীলতাহানি করেন, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম মন্তব্য করেন, দুই পক্ষের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা শুনেছি। ঘটনার স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। দুই পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে। তাছাড়া লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন