প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, গাজা উপত্যকায় তাদের অভিযানে হামাসের শুজাইয়া ব্যাটালিয়নের সামরিক নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ নাইম জানদিয়া নিহত হয়েছেন। খবরটি এসেছে আল জাজিরার পক্ষ থেকে।
আন্তর্জাতিক ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় অপহরণ করা তিনজন ইসরাইলি জিম্মিকে এক ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে রাখার দায়িত্বে ছিলেন জানদিয়া।
ইসরাইলের দাবি অনুসারে, ওই তিন জিম্মি পরবর্তীতে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। সে সময়ে সেনারা ভুলবশত তাদের ফিলিস্তিনি বলে শনাক্ত করেছিল, যা ইসরাইল স্বীকার করেছিল।
তবে মোহাম্মদ নাইম জানদিয়ার নিহত হওয়ার দাবি বা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে করে আরও বেশি ফিলিস্তিনির এলাকা বাসিন্দাদের জন্য অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়ছে, এ অভিযোগ করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের মানবাধিকার সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স।
গঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে কার্যকর হওয়া গাজার যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরাইলি সেনাবাহিনী যে সীমারেখা পর্যন্ত সরে গিয়েছিল, সেটিই প্রথমে ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু এর পরে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা গাজার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স জানায়, এর ফলে গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যা এখন উপত্যকার এক-তৃতীয়াংশেরও কম এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইয়েলো লাইন’-এর সম্প্রসারণের কারণে পানির উৎস, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি, এ নীতির কারণে বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ‘ইয়েলো লাইন’-সংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৯৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন নারী এবং ৪৩ জন শিশু রয়েছেন।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স আরও অভিযোগ করে যে, ‘ইয়েলো লাইন’ কার্যত একটি ‘কিল জোন’ বা মৃত্যু অঞ্চল, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নিয়ম অত্যন্ত শিথিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন